দোয়ারায় বাঁধ ভেঙে ভেসে গেছে ৮টি ঘর

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বর্ষণে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বন গ্রামের পাশের মাইজখলা গ্রামের পাশের হাওরের বাঁধ ভেঙে পানিতে ভেসে গেছে ৮টি বসত ঘর। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনদের দোয়ারাবাজার মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এদিকে অধিক ঝুঁকিতে বসবাস করছে আরও ৫টি পরিবারের লোকজন।
রবিবার বিকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বড়বন্দ গ্রাম ৩টি ও মাইজখলা গ্রামের দুইটি পরিবারের লোকজন দোয়ারাবাজার মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। গত শুক্রবার বিকালে হঠাৎ করে নদীর পানি বাড়ায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের একপাশে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এসময় পানির তোড়ে বসত ঘর ভেঙে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। পানি না কমলে নতুন করে ঘর তৈরি করা সম্ভব না হওয়ায় বিপাকে পড়েন ৮টি পরিবারের লোকজন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হলেন দক্ষিণ বড়বন গ্রামের মৃত. মিম্বর আলীর পুত্র চেরাগ আলী, ইমান আলীর পুত্র কামাল, মৃত. হুছন আলীর পুত্র সুহেল মিয়া, মৃত. আলকাছ আলীর পুত্র নুরুল হক, মিম্বর আলীর পুত্র উকিল আলী, মৃত. নবীন আলীর পুত্র সমুল্লা, সমুল্লার পুত্র কালাম, মৃত. মুজাফফর আলীর পুত্র ইমান আলী, চেরাগ আলীর পুত্র তারা মিয়া, নুর মিয়ার পুত্র আমির আলী, মাইজখলা গ্রামের সান্ত মিয়া। ঢলে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, ধান—চাল, পানিতে ভেসে গেছে। গৃহপালিত গরু ছাগল নিয়ে অসহায় পরিবারের লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ব্যবসায়ী লাল মিয়া বলেন, হঠাৎ বাঁধ ভেঙে নিমেষেই ৮টি পরিবারের ঘরবাড়ি পানির তোড়ে ভেসে যায়। এই মুহূর্তে সরকারি সহায়তা না পেলে ঘরহারা মানুষগুলো খোলা আকাশের নিচে না খেয়ে মরবে।
ঘরহারা আবিলা বেগম বলেন, আমার স্বামী নেই। ছেলে—মেয়ে নিয়ে মাথা গুজার ঠাঁই নেই। আমি প্রধানমন্ত্রী সহ স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছি।
ইউপি সদস্য কাছম আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তাদেরকে স্কুলের ভবনে থাকার জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে।