দোয়ারাবাজারের সড়কগুলো যেন মরণফাঁদ- ২ লাখ বাসিন্দা যাতায়াত ভোগান্তির শিকার

বিশেষ প্রতিনিধি ও আশিক মিয়া
বন্যার পানি নেমে গেলেও অভ্যন্তরীণ সড়ক ভোগান্তিতে পড়েছেন সুনামগঞ্জ জেলাবাসী। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি ভোগ করছেন দোয়ারাবাজারবাসী। এই উপজেলার যোগাযোগ সড়কগুলো আগে থেকেই খারাপ ছিল, এরমধ্যে এবারের বন্যায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়ে ৬ টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ মানুষ চরম যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের মধ্যে নরসিংপুর, বাংলাবাজার, বোগলা, লক্ষীপুর, সুরমা ও দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দারা এমন যোগাযোগ ভোগান্তিতে পড়েছেন যে তারা নায়ে  (নৌকা), পায়ে (পা), কিংবা যানবাহন কোনভাবেই চলাচল করতে পারছেন না।
দোয়ারাবাজার- টেবলাই-হকনগরের ১৯ কিলোমিটার সড়কের নাজুক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে উপজেলার ঘিলাতুলি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন,‘নি¤œমানের কাজ, ১৭-১৮ বছর ধরে মেরামত না হওয়ায় সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। বোগলা থেকে কান্দাগাঁও বাজার পর্যন্ত সড়কের অবস্থা দেখলে রীতিমত ভয় লাগবে। মনে হবে পায়ে হেঁটে গেলে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারি। মানুষ খুব কষ্ট করে চলাচল করছে। পাকা সড়কের অনেক স্থানে সলিংসহ ওঠে গেছে। কোন কোন স্থানে এক ফুট থেকে দুই ফুট গভীর গর্ত হয়েছে। বাংলাবাজার থেকে দোয়ারাবাজারের পাকা সড়ক ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, দোয়ারাবাজার-বাংলাবাজার সড়কের কালীউড়ি সেতু থেকে টেবলাইয়ের পাকার মাথা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক সামান্য বৃষ্টি হলেই ডুবে যাওয়ায় আরো বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়।
উপজেলার নরসিংপুর ইউপি সদস্য মো. আমির হোসেন বলেন,‘নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে বীরেন্দ্রনগর পর্যন্ত সড়কের ২ কিলোমিটার ভেঙে এমন অবস্থা হয়েছে যেখানে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ইউনিয়নের চাইরগাঁও বাজার হতে-ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কের কয়েক হাত দূর দূর গর্ত হয়েছে। চাইরগাঁও-ফকিরটিলা সড়কের চাড়ালবাড়ী’র পাশের ৩০০ ফুট সড়ক গত বন্যায় ভেঙে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।’
বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিম আহমেদ চৌধুরী রানা বলেন,‘বাংলাবাজার- দোয়ারাবাজারের একমাত্র পাকা সড়ক দেখলে আতংকিত হয়ে যান পথচারীরা। সড়কের দুটি স্থানের বেশ কিছু অংশের পাকা’র নিচের মাটিও সরে গেছে। যে কোন সময় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। দোয়ারাবাজার-সুনামগঞ্জ সড়কেরও বেহাল অবস্থা। ঐ সড়ক দিয়ে মোটর সাইকেল চালিয়ে গেলে হাতের কনুইয়ে-হাঁটুতে ব্যথা করে।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বলেন,‘এক বছর আগে যেখানে গাড়ী নিয়ে এসেছিলাম আজ বুধবার ৫ কিলোমিটার দূরে গাড়ী রেখে সেখানে মোটর সাইকেলে এসেছি। দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর থেকে কোথাও গাড়ী নিয়ে বের হওয়া কষ্টের এবং ঝুঁকিপূর্ণও। কিছু কিছু স্থানে উপজেলা পরিষদ থেকে সামান্য টাকা খরচ করে ইটের কোয়া ফেলে সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সেটিও যথেষ্ট নয় বা উল্লেখ করার মতোও নয়। দোয়ারাবাজার-হকনগর সড়কের ১৯ কিলোমিটার, দোয়ারাবাজার-নাছিমপুর সড়কের ২৫ কিলোমিটার, দোয়ারাবাজার- বোগলাবাজার সড়কের ১২ কিলোমিটার, দোয়ারাবাজার-লক্ষীপুর সড়কের ১২ কিলোমিটার যান চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এই সড়কগুলো ব্যবহার করেন ৬ ইউনিয়নের প্রায় ২ লাখ মানুষ। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক অনেক সড়কই সরেজমিনে এসে দেখেছেন। আজ বুধবারও তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, এলজিইডি’র হিমলিফ প্রকল্পসহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে এসব সড়কে কাজ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘দোয়ারাবাজার-হকনগর সড়কের জন্য ১৯ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা গত ২০ আগস্টে এলজিইডি’র সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করছি এই প্রকল্প অনুমোদন হবে। একইভাবে দোয়ারাবাজার-নাছিমপুর, দোয়ারাবাজার-বোগলা এবং দোয়ারাবাজার-নরসিংপুর সড়কের প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হচ্ছে।