দোয়ারাবাজারে জ্বর শ্বাস কষ্ট নিয়ে যুবকের মৃত্যু, খাটিয়া না পেয়ে বাবা ও দুই ভাই কাঁদে করে নিলেন লাশ

স্টাফ রিপোর্টার
জ্বর শ্বাস কষ্ট নিয়ে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বখতারপুর গ্রামের যুবককে কবরে নেবার খাটিয়াও পেলো না পরিবারের সদস্যরা, এমনকি বাঁশ দিয়ে খাটিয়া বানিয়ে দিতেও এগিয়ে আসলো না কেউ। পরে মৃত যুবক আব্দুস সালামের বাবা যবুল মিয়া মরদেহের মাঝখানে ও দুই ভাই আব্দুল খালেক (১৭) আগে এবং আলী নূর (১৬) পেছনে ধরে মৃতদেহ কবরে নিয়ে যায়। বুধবার সকালে ওই যুবকের মৃতদেহ কবর দেওয়া হয়। মৃতদেহ এভাবে কবরে নেবার ছবিটি অনেক দূর থেকে একজন তুললে সকলের জানাজানি হয়। দাফনের সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কাউকে কাছাকাছি দেখা যায়নি। উপস্থিত দুই পুলিশ সদস্যও অনেক দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর লাশ দেখতে আসা দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের মাঝেরগাঁয়ের দুই স্বজন পরিবারসহ বক্তারপুর গ্রামকে লকডাউনে থাকার নির্দেশ দেয় উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় লোকজন স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মীরা জানান, ২২ বছর বয়সি ওই যুবক ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। জ¦র-সর্দিতে ভুগছিলো সে। ওষুধ খাওয়ার পর ওই যুবকের জ¦র কমলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে শ^াস কষ্ট শুরু হয়। পরিবারের লোকজন স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তারদের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ান।
অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮ টায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর পর ওই যুবকের পরিবারসহ গ্রাম (১৬ পরিবার) এবং তার লাশ দেখতে আসা দোয়ারাবাজার সদরের মাঝের গাঁওয়ের দুই স্বজন পরিবারকে লকডাউনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মৃত যুবকের প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম জানান, আমি বাড়িতে ছিলাম না, শুনেছি আব্দুস সালাম মারা যাবার পর কেউ এগিয়ে আসেনি। কেউ লাশ ধরেনি। বাঁশের খাটিয়া বানানোর জন্য আশপাশের লোকের সহায়তা চাইলেও এগিয়ে আসেনি কেউ। প্রতিবেশী দুজন কেবল কবর খনন করে দেয়। মৃত যুবকের ভাই বাবা ও আত্মীয় ৮ জন জানাজায় অংশ নেন।
গ্রামের ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম জানালেন, খাটিয়া আনার সময় ছিল না। এজন্য খাটিয়া দেওয়া যায়নি। পলিথিনে পেঁছিয়ে মরদেহ কবরে নেওয়া হয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি আবুল হাসেম বলেন, যুবকটি মারা যাওয়ার পরদিন সকালে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। কবর দেওয়া পর্যন্ত পুলিশ ওখানেই ছিল। পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। তবে পরিবারের লোকজন উত্তেজিত ছিল। কাউকে কাছে ভিড়তে দেয় নি। বডিব্যাগে করে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ কবরে নিয়ে যান। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী লাশের কবর হয়েছে কী-না উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা বলতে পারবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ারের ফোনে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য অনেকবার চেষ্টা করলেও তাঁর ফোনের ইনকামিং বন্ধ থাকায়, কথা বলা যায়নি।