দোয়ারাবাজারে নৌকায় সন্তান প্রসব, নাম মিষ্টি রানী বন্যা

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজারে হাত নৌকায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে এক নারী কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান মাহমুদের সহযোগিতায় তার বাসার নিচতলায় কোমর পানিতে নৌকার মধ্যে সন্তানের জন্ম দেন ঐ নারী।
জানা যায়, গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের অজয় চন্দ্র শীল তার স্ত্রী পিনু রানী শীলকে নিয়ে হাত নৌকায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে প্রসব ব্যথা শুরু হয়। হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে স্ত্রীকে নিয়ে ডা. হাসান মাহমুদের বাসার নিয়ে যান অজয় চন্দ্র শীল। বাসায় ছিল কোমর সমান পানি, এসময় নৌকাতেই ডা. হাসান মাহমুদেরর আন্তরিক সহযোগিতায় প্রসূতি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।
এ সময় প্রসূতি মা, নবজাতকের পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার ও শিশুর জন্য শুকনো কাপড়ের ব্যবস্থা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. হাসান মাহমুদ।
এ ব্যাপারে পিনু রানী দাস বলেন, স্বামী ও শাশুড়িকে নিয়ে বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ করেই ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। তখন আমার প্রসব ব্যাথা শুরু হলে কোন উপায় না পেয়ে নৌকায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে সন্তান প্রসব করি। এই বন্যার দিনে মেয়ে হওয়াতে সবার সম্মতিক্রমে মেয়ের নাম রাখা হয় মিষ্টি রানী বন্যা।
অজয় চন্দ্র শীল বলেন, ঘরের ভেতরে কোমর পানি এমন সময় আমরা একটি হাত নৌকা নিয়ে হাসপাতালের উেেদ্দশ্যে রওয়ানা করি। ডাক্তার হাসান সাহেবের বাসায়ও পানি ছিল, এসময় নৌকাটি উনার বাসার প্যাসেজের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেই। পরে উনার আন্তরিক সহযোগিতার ফলে সুস্থ মতেই মেয়ে সন্তান প্রসব করে আমার স্ত্রী। তবে এসময় ডাক্তারে সাহেবের এনড্রয়েড ফোনটিও পানির পড়ে যায়।
এ ব্যাপারে ডা. হাসান মাহমুদ বলেন, বন্যায় কবলিত হয়ে আমি নিজেও বাসার উপরতলায় আশ্রয়ে ছিলাম। হাত নৌকায় প্রসূতি কে দেখে কোমর সামান পানিতে নেমে সার্বিক সহযোগিতা করি, পরে নবজাতক এবং মা কে সুস্থভাবে বাড়ি পৌঁছে দিই।