আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
তিন লাখ মানুষের জন্য আছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। কাগজে কলমে দুই জন থাকলেও প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী আউটডোরে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কোন ডাক্তার থাকেন না।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আউটডোরে চিকিৎসা দিচ্ছেন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার। আর এভাবেই চলছে দোয়ারাবাজার উপজেলার বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মৌলিক চিকিৎসাসেবা।
দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে হাসপাতালের আরএমওর পদটিও। ৩১ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট চলছে দীর্ঘদিন ধরে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেক রোগী চিকিৎসার প্রত্যাশা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলেও আশাহত হয়ে খালি হাতে ফিরেন।
জানা যায়, উপজেলায় নয়টি ইউনিয়নের উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে ডাক্তার শূন্যতার কারণে ৩টি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষদের চিকিৎসা ভোগান্তিও দিন দিন বাড়ছে।
বর্তমানে উপজেলা সদরের হাসপাতালের চিকিৎসক সংখ্যা মাত্র ৩ জন। কিন্তু প্রতিদিনের রুটিনে আউটডোরে কর্মরত থাকেন ১ জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ডিউটি বণ্টন করে দেন। সপ্তাহের ৩ দিন ডিউটি করবে একজন, আর অপর ৩ দিন একজন। এভাবেই চলে আসছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ এসব বিষয় জানান পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৪ বার কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছেন এবং অপর আরেকজন মেডিকেল অফিসারের অনুপস্থিতির কারণে বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছেন। হাসপাতালে সকল সরঞ্জামাদি থাকার পরও কোন কিছুই কাজে লাগছে না। একটি মাত্র এক্স-রে মেশিন তাও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ল্যাব থাকলেও টেকনেশিয়ান নেই, এম্বুলেন্স আছে কিন্তু ট্রলি নেই, এখানে শুধু নেই আর নেই।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছমা নামে এক রোগী জানান, এক্স-রে মেশিন না থাকায় তাদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অপারেশন
থিয়েটার থাকলেও ডাক্তার না থাকায় সকল সরঞ্জামাদি নষ্ট রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি মোতাবেক মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, এনেসথেসিয়া, শিশুরোগ, অর্থোপেডিক্স, নাক-কান-গলা ও ডেন্টাল সার্জনসহ মোট ৯ কনসালটেন্ট থাকার কথা। মেডিক্যাল অফিসারের পদ রয়েছে ১৬টি। কিন্তু আছেন মাত্র ৩ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থাকলেও তিনি সপ্তাহে ২ দিন অফিস করেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার নেই একজনও। ৪ জন অফিস সহকারীর পদ থাকলেও কর্মরত আছেন একজন। ভান্ডার রক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালে নার্সের পদ রয়েছে ১১টি। কিন্তু বর্তমান কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। হাসপাতালে ৬ জন অফিস পিয়নের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ১ জন। এছাড়াও হাসপাতালে নৈশ প্রহরীর দুই জনের স্থলে ১জন থাকায় মাঝে মধ্যেই হাসপাতালের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
জানা যায়, জরুরী বিভাগের একটি রুমে হাসপাতালের নৈশ প্রহরী থাকছেন। ঐ রুমে থাকা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নষ্ট হয়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। হাসপাতালে ২টি জেনারেটর থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনও চালু হয়নি বলে জানান স্থানীয় লোকজন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. হানিফ মিয়া জানান, ১৫৯ টি পদের মধ্যে ৭১টি পদই শূন্য রয়েছে। এই শূনতা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।
দোহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনু বলেন,‘আমার ইউনিয়নের একমাত্র ১০ শয্যা বিশিষ্ট ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।’ তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে ডাক্তার নিয়োগের জোর দাবি জানান।
দোয়ারাবাজার সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালেক বলেন,‘উপজেলা সদর হাসাপাতালে শুধু ডাক্তারই নয় হাসপাতালটিতে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য প.প.কর্মকর্তা ডা. পুলিন বিহারী ধর বলেন,‘এখানে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হলেও তারা উপর থেকে রিলিজ এনে চলে যান। আমার করার কিছু থাকে না।’ তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে জনবল নিয়োগ করা অতিব জরুরি।


