দোয়ারার সুরমা ইউপির নির্বাচন বাতিলের দাবিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
সদ্য অনুষ্ঠিত দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের বাতিল ঘোষণার দাবিতে সুনামগঞ্জের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে পিটিশন (মামলা) দাখিল হয়েছে। নির্বাচনী মামলা নং-০২/২০১৬ ইং, তারিখ ২৯/০৫/২০১৬ ইং।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হারুন অর রশীদ রবিবার নিজে বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত বিজয়ী চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনুর রশীদ, প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ২৫ জনকে বিবাদী করে এই পিটিশন দাখিল করেছেন। আদালত তার পিটিশন গ্রহণ করে বিবাদীদের প্রতি সমন জারীর আদেশ দিয়েছেন।
পিটিশনে আবেদনকারীকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন মর্মে ঘোষণা, নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদে ভোট গ্রহণ বাতিল ঘোষণা করে ওই কেন্দ্রের চেয়ারম্যান পদে পুনরায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানের নির্দেশ অথবা সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে   চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের বাতিল ঘোষণার দাবি করা হয়েছে।
পিটিশনে বিবাদী করা হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শাহজাহান, ইকবাল হোসেন বুলু, আব্দুল বাকির, হুমায়ুন রশীদ, ইউনিয়নের নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ছাদেকুর রহমান, সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার কাজী শাহজাহান মিয়া, সৈদুনূর আহমদ, কামরুল ইসলাম, ইদ্রিছ আলী, জালাল উদ্দিন, পোলিং অফিসার ফয়সল আহমদ, হেমেন্দ্র কুমার দাস, প্রণব দাস, শাহেদ আলী,  হাসান আহমদ,  আমিনুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, অধির চন্দ্র দাস, বিশ্বজিৎ দেবনাথ, সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার উপজেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের সচিবকে।
আদালতে দাখিল করা পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী খন্দকার মামুনুর রশীদকে যেনতেন প্রকারে বিজয়ী করার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহবায়ক ফরিদ আহমেদ তারেকের নেতৃত্বে আবেদনকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হারুন অর রশীদের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার জন্য নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সসহ সকল নির্বাচনী সামগ্রী অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করেন এবং ভোটের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য জিম্মি করে কেেেন্দ্রর প্রিজাইডিং অফিসারকে দিয়ে  জাল ও বানোয়াট ফলাফল বিবরণী তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রের ফলাফল বিবরণীতে এজেন্টদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে ব্যালট পেপার গণনা পুরোপুরি শেষ হওয়ার পূর্বেই সমস্ত ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছে।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড.স্বপন কুমার দাস রায় বলেন, আদালত পিটিশনটি গ্রহণ করেছেন এবং বিবাদীদের প্রতি সমন জারীর আদেশ দিয়েছেন।’