দোয়ারায় কষ্টে আছে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
নিজে ছিলেন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ছোট মেয়ের স্বামী অন্যত্র চলে যাওয়ায় কয়েক বছর ধরে তিন সন্তান নিয়ে আছেন বাবার আশ্রয়ে। স্ত্রী আর এক কন্যা আর নাতি নাততিদের নিয়েই ছিল তার সংসার। ছেলে না থাকায় পরিবারের আর কোন উপার্জনক্ষম ব্যক্তিও নেই। বড় মেয়ের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাকেও সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে হতো। সংসারের খরচ আর নিজের চিকিৎসা চলতো সম্মানী ভাতায়। কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে চলে যেতো। বলছিলাম দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের জিরারগাঁও গ্রামের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. গুলজার আলীর কথা। তার কল্যাণ ট্রাস্ট নং ২৪৭০৬ ও লাল মুক্তিবার্তা নং ০৫০২০৯০২২৪। দীর্ঘদিন রোগে ভোগে গত ২ মার্চ মারা যান তিনি। এরপর থেকে আটকে আছে তার সম্মানী ভাতা। এতে চার মাস ধরে চরম সংকটে পড়েছে তার পরিবার। মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ফুলেছা বেগম কোন বেঁচে থাকার দিশা খুঁজে পাচ্ছেন না।
সরেজমিনে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি টিনসেডের বাড়িতে ছোট ছোট মেয়ে আর নাতি নাতনিদের বাস করছেন প্রয়াত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. গুলজার আলীর স্ত্রী ফুলেছা বেগম। বসত ভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ফুলেছা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি অসুস্থ। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। ঘরে খাবার নেই। স্বামী মারা যাওয়ার পর কেউ আমার খোঁজ খবরও নেয়নি। লজ্জায় কারো কাছে হাতও পাততে পারছি না। প্রায় চার মাস ধরে সম্মানী ভাটার টাকা আটকে আছে। ভাটার টাকা পেলে অন্তত না খেয়ে থাকতে হতো না। ছোট মেয়ের ঘরের এক নাতি বেকারীতে কাজ করতো। করোনায় কারণে তার কাজও বন্ধ। ঋণ করে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে চলছে সংসার।
জানা যায়, প্রয়াত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. গুলজার আলীর ভাতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রে একটি লিখিত আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সফর আলী বলেন, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মো. গুলজার আলী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে আহত হয়েছিলেন। আমরা যারা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা তাদের ভাতা দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে। আর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট নতুন একটি নীতিমালা করতে যাচ্ছে। সেই নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হওয়ায় গুলজার আলী সহ অনেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতার টাকা আটকে আছে।
মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের আহবায়ক অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, প্রয়াত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো. গুলজার আলীর পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছি। তারা খুবই কষ্টে আছেন। কি কারণে ভাতা আটকে আছে জানি না। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবার না খেয়ে মরবে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সহ সমাজের সুহৃদয়বার ব্যক্তিদের আমি এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাই।