দোয়ারায় জোড়া খুন- গ্রেফতার আতঙ্কে দুই গ্রাম পুরুষ শূন্য

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালীয়া ইউনিয়নের গুরেশপুর গ্রামে জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতার আতঙ্কে দুইটি গ্রামের পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। পূব বিরোধের জের দু’টি হত্যাকা-ের তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই মামলা দায়ের করেন নি।
সোমবার গোরেশপুর ও বেরিগাঁও গ্রামে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বয়োবৃদ্ধ লোকজন ছাড়া গ্রামে কোন পুরুষ মানুষ নেই। সম্প্রতি বন্যার পানিতে রোপা আমন জমি তলিয়ে যাওয়ার পর এখন জমি থেকে পানি নামলেও পুরুষ শূন্যতার কারণে জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রামের সেরুজ্জামান ও মাসুক মিয়ার মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত রমজান মাসের     
প্রথমদিকে মাসুক মিয়ার লোকজন গোরেশপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুদ্দিনের এক ভাতিজা ছায়ফুল ইসলামকে চৌমনা পয়েন্টে মারপিট করে। এঘটনার পর থেকেই বিরোধ শুরু হয়। এর কিছুদিন পরেই ১৭ রমজান গোরেশপুর গ্রামের কিছু যুবক মাসুক মিয়ার ভাই কাউছারকে ইউনিয়ন পরিষদের ইফতার পার্টি থেকে বাড়ি ফেরার পথে গোয়ারাই ব্রিজের উপর হামলা চালিয়ে বেধরক মারপিট করেন। এঘটনায় নুরুদ্দিনসহ গ্রামের আরও ২০ জনের উপর মামলা দায়ের করেন কাউছারের ভাই মাসুক মিয়া।
স্থানীয়দের দাবি এসব ঘটনার সূত্র ধরেই গত শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় প্রকাশ্য দিবালোকে জনতার সামনে চৌমুনী পয়েন্টে শেরুজ্জামানকে নৃশংসভাবে রামদা দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে খুন করা হয়। সেরুজ্জামানের মৃত্যুর খবর তার গ্রামে পৌঁছলে তার আত্মীয়-স্বজন দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে বেরিগাও গ্রামের লোকজনের উপর হামলা করতে আসলে উভয় গ্রামের লোকজনের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে। এসময় দুই গ্রামের সংঘর্ষে বেরিগাও গ্রামের ফয়জুর রহমানের ছেলে এবাদুল্লাহ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
গোরেশপুর গ্রামের জনৈক বৃদ্ধা জানান, রাইতের আন্ধাইরে ঘুমাইতে পারি না খালি ডর ডর লাগে। বাড়িত কোন বেটাইন মানুষ না থাকায় বাড়িডা একবারে খালি অইগেছে।
দোহালীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনু বলেন,‘ এলাকার শান্তি রক্ষার স্বার্থে সবাই চায় খুনের ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি এনামুল হক জানান, শনিবার সারা দিন গোরেশপুর ও বেরিগাও গ্রামে ছিলাম। দুই গ্রামের পুরুষ লোকরা গা ঢাকা দিয়েছে। শনিবার এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেনি। দুই গ্রামের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।