দোয়ারাবাজারের নদী ভাঙ্গন বাস্তবতার সমাধানে কোন কার্যকর প্রকল্প প্রণীত হয় নি আজোবধি। এই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অনেকগুলো গ্রাম এবং খোদ উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক এলাকা নদী ভাঙ্গনের হুমকি কবলিত। ইতোমধ্যে বহু গ্রামের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মন্দির মসজিদ, গাছপালা নদীতে বিলিন হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ টাকার অংকে হিসাব করা হয় না, তাই ক্ষয়-ক্ষতির বিশালতাও সকলের সামনে আসে না। যদি এইসব ক্ষতিকে আর্থিক মূল্যমানে রূপায়িত করে প্রচার করা হত তাহলে দেখা যেত, নদী ভাঙ্গন সমস্যার স্থায়ী সমাধানকল্পে গৃহীত প্রকল্প ব্যয়ের চাইতে এর পরিমাণ বেশি বৈ কম কিছু নয়। প্রতিনিয়ত এই ক্ষতি বেড়ে চলেছে। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে কত মানুষ নিঃস্ব হয়েছেন, কত মানুষ ভিটে হারিয়ে এখন দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন সেই হিসাব অজানা থেকে যায় নীতিনির্ধারকদের। দোয়ারাবাজারের নদী ভাঙ্গনের এই সমস্যাটি নতুন নয়। এটি গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক সমস্যা। এ নিয়ে এন্তার আওয়াজ উঠেছে, এলাকার মানুষ প্রতিবাদের কথা মুখে নিয়ে খোলা রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়েছে, জনসভা করেছে; কিন্তু কিসের কী, অবস্থা তথৈবচ। দেখছি, লিখছি… ঘরানার বাইরে আসতে পারছে না কেউ।
আমাদের দেশটি অর্থনৈতিকভাবে প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে, রাষ্ট্রপরিচালকদের এমনই অভিমত। আমজনতাও খালি চোখে উন্নয়নের বহু দৃশ্য দেখে পুলকিত হয়ে থাকেন সত্য। এই দেশের বড় বড় মহানগরে ফ্লাইওভার তৈরি করে হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়। বেশুমার পয়সা খরচ করা হয় প্রয়োজনীয়-কম প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় কাজে। এরকম অবস্থায় বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত উপজেলা দোয়ারাবাজারের মানুষ মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন তাদের জীবন-মরণ সমস্যার সমাধানেও ছিটেফোটা পয়সা খরচ করা হবে। এই আশায় তারা বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন। তাদের মনের আশা আর পূরণ হয় না। কেন হয় না? এমন প্রশ্নের উত্তরে বেরসিক কেউ যদি বলে উঠেন, মুরোদ কি কমে গিয়েছে, তাহলে তেড়েবেড়ে উঠার লোকের কমতি হবে না। কিন্তু এই রকম বলা ছাড়া আর কিইবা করার আছে?
গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে দোয়ারাবাজারের সুরমা নদীর ভাঙ্গনের বিষয়ে আবারও একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনের তথ্যে নতুন আরও কিছু ক্ষতির তালিকা সংযুক্ত হয়েছে, আরও বেশ কিছু মানুষের হতাশার বেদনা মিশেছে, আরও কিছু নতুন আশঙ্কা ফুটে উঠেছে। বলা হচ্ছে, নদীটি আরও কূলনাশা কীর্তিনাশা হয়ে উঠছে। সুরমা দোয়ারাবাজারে আজদহ সাপের মতো জনপদ গিলে খেতে বিশাল মুখ নিয়ে এগিয়ে আসছে। এবার নাকি উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সরকারি বাড়ি; এর সবকিছুই যাবে। আমরা জানি কোন কিছু গড়ে তোলা কত কঠিন। কষ্টে গড়ে উঠা এইসব স্থাপনা চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যাবে এটি সহ্য করার নয়। তাই ক্ষতি বৃদ্ধির আগেই সুরমার আগ্রাসী চরিত্রকে নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। সরকারি প্রশাসনকে আমরা এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে নজর দেওয়ার জন্য সবিনয়ে অনুরোধ জানাই। কোন ফাঁকা আশ্বাসের মাঝে যাতে এই প্রলয়ংকরী প্রপঞ্চটি আটকা পড়ে না থাকে তাই আমাদের কামনা।

