দোয়ারায় নিরিহ পরিবারের উপর হামলা, নারীসহ আহত ৮

স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের আফছরনগর (ঢালারগাঁও) গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংখ্যালঘু একই পরিবারের নারীসহ ৮জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে ভূমি দখলবাজ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। বৃহস্পতিবার সকালে ঢালারপাড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফছরনগর (ঢালারপাড়) গ্রামের কৃষক হরেন্দ্র শুক্ল বৈদ্য বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের সামনে পৈত্রিক জমিতে চাষাবাদ করছিলেন। এসময় গ্রামের প্রভাবশালী ভূমিখেকো আব্দুল করিম ও আব্দুর রহিম জোর করে হরেন্দ্র শুক্ল বৈদ্যের জমি দখল করতে যায়। হরেন্দ্র শুক্ল বৈদ্য তাদেরকে বাধা দেন। জমি দখলকারীরা হরেন্দ্রকে মারধর শুরু করে। হরেন্দ্র শুক্ল বৈদ্য’র চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে যান ও বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করেন।   
এসময় আব্দুর রহিম ও আব্দুল করিমের লোকজন হরেন্দ্র শুক্ল বৈদ্য ও তার পরিবারের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় নারীসহ ৮ জন গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় গ্রামবাসী আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহতরা হলেন, হরেন্দ্র শুক্ল বৈদ্য (৩৮), তার স্ত্রী সঞ্চিতা রানী শুক্ল বৈদ্য (৩০), তার ভাই মনিন্দ্র শুক্ল বৈদ্য (৪৩), বাবা উপেন্দ্র শুক্ল বৈদ্য (৮৫), কাকাতো ভাই বারিন্দ্র শুক্ল বৈদ্য (৪০),  বারিন্দ্র শুক্ল বৈদ্যর স্ত্রী বীনা রানী বৈদ্য (৩৫), মনীন্দ্র শুক্ল বৈদ্যর স্ত্রী শিউলী রানী বৈদ্য (৩৫), হরেন্দ্র শুক্ল বৈদ্য’র কাকি জয়মতি বৈদ্য (৬০)। আহত ৫জনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের সবাইকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্য আহত ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ সদর হ্সাপাতালে আহতদের দেখতে যান জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বিশ্বজিত চক্রবর্তী, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. গৌরাঙ্গ পদ দাস, প্রচার সম্পাদক অ্যাড. অনুপ চন্দ্র ধর, আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতা অ্যাড. প্রনয় চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তো রায় প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ আহতদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে কথা বলা ও তাদের আইনী সহায়তা করার আশ্বাস প্রদান করেন তারা।
তবে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সেলিম নেওয়াজ জানান, জমির মালিকানা বিরোধের জের ধরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ওই জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। উভয় পক্ষই জমির মালিকানা দাবি করছেন। আব্দুর রহিম গংদের দাবি তারা স্বাধীনতার পর থেকেই এই জমির দখলে আছেন। অন্যদিকে হরেন্দ্র গংদের দাবি এই জমির মালিকানায় তাদের অংশ রয়েছে। হামলা বা মারধরের ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।