স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজার উপজেলার তিন ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী পৃথক সহিংসতায় এক পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়ে।
ভোট গণনা শেষে স্থানীয় ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ব্যালট বাক্স নিয়ে উপজেলা সদরে ফেরার সময় শনিবার বিকাল ও সন্ধ্যায় উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাবপুর, সুরমা ইউনিয়নের নূরপুর এবং পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের গোপিনগর গ্রামের কেন্দ্রে পৃথকভাবে এই ঘটনা ঘটে। তিন স্থানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।
এদিকে পুলিশের গুলিতে পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের গোপিনগরের নতুন নগর গ্রামের রজব আলীর ছেলে কয়েছ (২৭) নামের গুরুতর আহত একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সেলিম নেওয়াজ ও পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ দাবি করেছেন পুলিশের গুলিতে কেউ আহত হয়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দোহালিয়া ইউনিয়নের প্রতাবপুর, সুরমা ইউনিয়নের নূরপুর কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ ফাকা গুলি ছুড়ে । এদিকে সন্ধ্যার পর পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের গোপিনগর কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে উপজেলা সদরে ফেরার পথে পরাজিত প্রার্থীর লোকজন ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ ও
নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বাঁধা দিলে তাদের গতিরোধ করে উপর হামলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ ব্যালট বাক্স রক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ফাকা গুলি ছুড়ে। এসময় পুলিশের সাথে স্থানীয়দের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের হামলায় এক পুলিশসহ কয়েকজন আহত হয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সবাইকে উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার শনিবার রাত ১০ টায় জানিয়েছেন ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে আসার সময় পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিল স্থানীয়রা। এসময় এক পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।’
তবে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সেলিম নেওয়াজ বলেন, ‘নির্বাচনে পর তিন ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রের আশপাশে স্থানীয়ভাবে ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই পৃথক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও একটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বনিদ্ব প্রার্থীর লোকজন ঝামেলার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিনস্থানে পুলিশ ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। কেউ আহত হয়েছে বলে জানা নেই। এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।
পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশের গুলিতে কেউ আহত হয়নি। এখন নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচন শেষে ব্যালট বাক্স নিয়ে উপজেলা সদরে ফেরার পথে পুলিশ ও নির্বাচনের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তদের উপর হামলা করে স্থানীয় কিছু লোকজন। ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে দুইজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সবাইকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাকা গুলি ছুড়েছে।’


