স্টাফ রিপোর্টার
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার বাদী হয়ে একটি এবং পুলিশকে মারধর ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে। দু’টি মামলায় আসামী করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। শনিবার রাতেই থানায় মামলা দু’টি দায়ের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দোয়ারাবাজার উপজেলায় সুরমা ইউনিয়নের নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচন শেষে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনের সকল মালামাল নিয়ে উপজেলা সদরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সবাই। এসময় ব্যালট পেপার ও নির্বাচনের কাছে ব্যবহৃত সকল জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহবায়ক ফরিদ আহমদ তারেকসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রিসাইডিং অফিসার সাদিকুর রহমানসহ অন্যান্য লোকজনকে মারধর করে। এসময় পুলিশ ২৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে রাতে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পুলিশ ও নির্বাচনী কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে।
এঘটনায় নূরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলার নরসিংহপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার সাদিকুর রহমান বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহবায়ক সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ আহমদ তারেক,মাহবুব আহমেদ অপু, এনামুল হক, জয়নাল মিয়া, আব্দুল হাসিম ও রাজিব মিয়াসহ আওয়ামী লীগের ৬ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে অণ্য মামলার অভিযোগসূত্রে জানা যায়, দোহালিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহি চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীমুল ইসলাম শামীমের কর্মী-সমর্থকরা ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের লক্ষে প্রতাবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপর হামলা করে এবং সিলেটের মেট্রোপলিটন এলাকার কামাল হোসেন নামের এক এসআইয়ের ১৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি দু’টি ম্যাগজিনসহ পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৫৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবির সদস্যা সবাইকে উদ্ধার করে। পরে গভীর রাতে পুলিশ খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার করে দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ।
এই ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানার এসআই ছায়েদুর রহমান বাদী হয়ে প্রতাবপুর গ্রামের বাসিন্দা চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীমুল ইসলাম শামীম, শফিকুল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, মাসুম আহমদ, নজরুল ইসলাম ও কাজী আজাদ মিয়াসহ ৭জনের নাম উল্লেখ করে ৪০জনকে আসামী করে পুলিশকে মারধর ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের মামলা করেন।
তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহবায়ক ফরিদ আহমদ তারেক ও দোহালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহি চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীমুল ইসলাম শামীম।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি সেলিম নেওয়াজ বলেন,‘ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনের সকল জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগে নূরপুর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সাদিকুর রহমান বাদী হয়ে একটি ও পুলিশকে মারধর ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানার এসআই ছায়েদুর রহমান বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছে।’
দোহালিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহি চেয়ারম্যান প্রার্থী শামীমুল ইসলাম শামীম বলেন,‘আমি ও আমার লোকজন পুলিশসহ কাউকে মারধর করেনি। সরকার দলের প্রার্থী ও তার লোকজন এই ঘটনা করেছে। তারা ভোট কারচুপি করার জন্য আমার সকল এজেন্টকে মারধর করে বের করে দিয়েছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার তাদের সহয়তা করেছে।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের আহবায়ক ফরিদ আহমদ তারেক বলেন,‘নূরপুর কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের কোন ঘটনা ঘটেনি। আমাকে হয়রানী করার জন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলা করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার পরাজিত প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে ভোট বাড়িয়ে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। এনিয়ে প্রকৃত বিজয়ী প্রার্থী পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রিজাইডিং অফিসার কোন কথাই শুনেননি। এসময় সাধারণ ভোটারদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।’
- জিতল সাকিবের কলকাতা
- ভোট বিশ্লেষণ-২৬ ইউনিয়নের ১৯ টিতে আ.লীগ প্রার্থীর পরাজয় ‘মনোনয়ন বাণিজ্যে চপেটাঘাত হয়েছে’


