দোয়ারায় পাশবিক নারী নির্যাতন ঘটনায় রহস্যের জট

স্টাফ রিপোর্টার
দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের পল্লীতে সৌদী প্রবাসী এক পরিবারের ৬ জনকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার লুটপাট ও বাড়ীর গৃহিনীকে গণধর্ষণের অভিযোগের কোন কূল কিনারা হচ্ছে না।
সময়ের সাথে সাথে এই ঘটনার নানা রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। ঘটনার দু’দিন পেরিয়ে গেলেও এঘটনায় থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি। নির্যাতনের শিকার প্রবাসীর স্ত্রী গণমাধ্যমকে একেক সময় একেক কথা বলছেন।
এদিকে শনিবার প্রবাসীর স্ত্রী ছাড়া অন্য ৫জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। নির্যাতিত মহিলাকে গাইনী বিভাগের লেবার ওয়ার্ড থেকে কেবিনে স্থানান্তÍর করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে ডাক্তারী পরীক্ষায় কি পাওয়া গেছে তা স্পষ্ট করে বলেন নি দায়িত্বশীল কেউ। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে প্রবাসীর ভাতিজা গুলজার হোসেন (৩৫) নামের একজনকে আটক করলেও পুলিশ তার কাছ থেকে কি পেয়েছে তা জানা যায়নি।
ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে কি না স্পষ্টভাবে না বললেও তার চিকিৎসা সেভাবেই হচ্ছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। ওই সূত্র জানিয়েছে ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষণের কিছু আলামত পাওয়া গেছে।
তবে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক রওশন বলেন,‘আমি ওই মহিলার পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেছি। রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি। এসব রিপোর্ট অত্যন্ত গোপনীয়। রিপোর্ট সম্পর্কে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও সিভিল সার্জন বলবেন।’
বৃহস্পতিবার রাতে প্রবাসীর বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে আসা ও রাত্রিযাপনকারী ওই যুবকের পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ যুবকের পরিচয় খোঁজে বের করতে পারেনি। প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে যুবকের পরিচয় সম্পর্কে নানা রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে তার নাম আরিফ বললেও শনিবার দুপুরে বোল পাল্টে বললেন, ওই যুবককে তিনি চেনেন না।
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রবাসীর স্ত্রী বলেন,‘আরিফ নামের আমি কাউকে চিনি না। এক লোক সন্ধ্যার পর আইয়া বলল, বিপদে পড়ছে রাতে থাকব। ওই লোকই রসমালাই, আরো কিতা জানি আনছিল। হেই লোকই ঘরের সবরে ইতা খায়াইছিল। আমি খাইছিনা। আমি অন্য রুমে ঘুমাইছিলাম।’ আপনি অন্য রুমে ঘুমালে সে রুমে কিভাবে অন্যরা ঢুকল? জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ মনে হয় দরজার ছিটকারী লাগাইল আছিল না। আমি পুলারে কইছিলাম লাগাই দিতে। হে অয়ত ভুল করে ছিটকারী লাগাইছিল না। ওই লোকই গামছা দিয়ে তার গলায় শ্বাসরুদ্ধ করে মারার চেষ্টা করছে। এসময় গ্রামের ৩-৪ জন উপস্থিত ছিল।’ রাত ৮ টার পরই এই ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
গ্রামের তিনজন কিভাবে ঘরে ঢুকল জানতে চাইলে বলেন,‘ ওই লোক যখন আমার ঘরে ঢুকে সম্ভবত এরা ঘরের বাইরেই ছিল, পরে ঘরও ঢুকছে।’
কথা বলার ফাঁকে মহিলার এক আত্মীয় কানে কানে কি যেন বলে দেন। এর পর উপস্থিত তার ছেলে ও আত্মীয় স্বজনরা বলেন,‘ ভাই পরে আসেন এখন কথা বলা যাবে না।’
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রবাসীর স্ত্রীর গলায় শাশ্বরূদ্ধ করার চিহ্ন ছিল, ঠোটে এবং মুখে আঘাত ছিল। ধর্ষণের অভিযোগ করায় এবং প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সন্দেহের মধ্যে থাকায় এ বিষয়ে ডাক্তারী পরীক্ষা করা হয়েছে। এখনই সঠিকভাবে কিছু বলা যাবে না।’
দোয়ারাবাজার থানার ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই শামীম আখঞ্জী বলেন,‘ আটককৃত গুলজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগও করেনি। সে অন্য একটি মামলার আসামী ,তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই মহিলার দূরসস্পর্কের এক আত্মীয় নাকি রাতে রসমালাইসহ আরো কিছু খাদ্য নিয়ে আসছিল। এসব খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই অজ্ঞান হয়েছিল বলে জানা গেছে। একমাত্র ওই মহিলাই ঘটনা সম্পর্কে সবকিছু জানেন। ওই মহিলার ভাই জানিয়েছেন তিনি সুস্থ হয়ে উঠার পরই অভিযোগ দিবেন।’