বিশেষ প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার সীমান্তের চিলাই নদীর পাড় কেটে সরকারের কোটি কোটি টাকার বালু প্রকাশ্যে বিক্রয় করছে কয়েকজন ড্রেজার ব্যবসায়ী। এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনকে নালিশ, করেও ঠেকাতে পারছেন না বালু খেকোদের। এলাকাবাসী পাহাড়ী ঢল থেকে ঘর-বাড়ি রক্ষায় পাড় কাটা বন্ধ করতে রবিবার মানববন্ধন করেছে। তাতেও দমেনি বালু খেকোরা। দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের চিলাই নদীর পাড়ের উরুরগাঁও-বাঘমারা এলাকায় এই বালু লুট হচ্ছে।
উরুরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ছিদ্দিক আহমদ বললেন, পাহাড়ি নদী চিলাইয়ের ভাঙনে ইতিপূর্বে আমাদের রেকর্ডিয় অনেক জমি বিলীন হয়েছে। গেল কয়েক বছরে ভাঙন এলাকায় চর পড়েছে। বর্ষায় পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে নদীর পাড়ে নিজেদের উদ্যোগে সড়ক দিচ্ছি, অথচ ড্রেজার মেশিন দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন নদীর পাড় কেটে ইতিমধ্যে ৫০ লাখ টাকারও বেশি বালু বিক্রয় করেছে। প্রথমে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার সময় বলা হয়েছিল, গুচ্ছ গ্রাম ভরাটের জন্য বালু নেওয়া হবে। আমরা বাধা দেইনি। এখন দেখা যাচ্ছে প্রতিদিনই ছয়-সাতশ টাকা দরে শত শত ট্রলি বালু বিক্রয় করা হচ্ছে। দোয়ারাবাজারের বিভিন্ন এলাকায় এখানকার বালু যাচ্ছে।
উরুরগাঁওয়ের নান্দু মিয়া বললেন, পাহাড়ী নদীর ঢল ঠেকাতে প্রতিবছরই যুদ্ধ করি আমরা। এখন আবার আমাদের বাড়ীর পাশের নদীর পাড় কেটে ছয়শ থেকে হাজার-এগারশ টাকা ট্রলি হিসাবে বিক্রয় করা হচ্ছে। গ্রামবাসী রোববার মানববন্ধন করে ঘটনার প্রতিবাদ জানালেনও তারা বালু বিক্রয় অব্যাহত রেখেছে।
এলাকার ভাওয়ালি পাড়ার সুরুজ মিয়া জানালেন, যারা বালু তুলছে তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের নির্দেশে এটি করছে বলে এলাকাবাসীকে জানিয়েছে।
ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম বললেন, সরকারি সম্পদ ইচ্ছেমত লুট হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫০ লাখ ঘনফুট বালু তুলে নিয়ে বিক্রয় করেছে স্থানীয় কিছু লোক। যারা বালু তুলছে, তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দোহাই দিচ্ছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল কাদির বললেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছে। যারা বালু উত্তোলন করেছে, তাদের বহু বালু এখনো পাড়ে আছে। যে কেউ এসে দেখতে পারবেন। গুচ্ছগ্রামে ১৫ হাজার ফুট বালু লাগবে না, তারা লাখ লাখ ফুট বালু নিয়ে যাচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যানের দোহাই দিয়ে।
বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বললেন, চিলাই নদী থেকে বালু কারা ওঠাচ্ছে এটাও আমার জানা নেই। মানববন্ধন কারা করলো এটাও জানি না। কোন ইউপি সদস্যও এই বিষয়টি আমাকে জানান নি।
স্থানীয় এক যুবক জানালেন, রোববার বাঘমারার বোমা মেশিনের মালিক আলম মিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে অ্যাসিল্যা- অফিসে নেওয়া হয়েছিল। পরে কী হয়েছে জানি না।
বাঘমারার আলম মিয়া এই প্রসঙ্গে বললেন, বালু কেন তুলে নিচ্ছি অফিসে নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমি বলেছি বাঘমারা স্কুল থেকে বাংলাবাজার সড়কের কাছা অংশ ভরাট করার জন্য। পরে আর কিছু বলা হয় নি।
সহকারী কমিশনার ভূমি (অ্যাসিল্যান্ড) ফয়সল আহমদের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায় নি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ মুর্শেদ মিশু বললেন, অভিযোগ আমিও পেয়েছি। সরেজমিনে গিয়ে ড্রেজার মেশিন কিংবা কোন লোক পাওয়া যায় নি। আলম মিয়া নামের এক ড্রেজার মালিককে রোববার অফিসে আনা হয়েছিল কী-না জানতে চাইলে, তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানতে হবে বলে জানান।


