Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
দোয়ারায় প্রকল্প এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

দোয়ারায় প্রকল্প এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন

বিশেষ প্রতিনিধি ও আশিক মিয়া
নদী শাসনের ১৯১ কোটি টাকার কাজ চলছে। এরমধ্যেই প্রকল্প এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে এলাকা ছাড়ছে মানুষ। নদী ভাঙনের শিকার নিরূপায় পরিবারগুলো স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। অথচ. পাউবো’র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী কিংবা ঠিকাদার কেউই ভাঙন ঠেকাতে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন নি। পাউবোর প্রকৌশলী সবিবুর রহমান অবশ্য বলেছেন, প্রজেক্টের ভেতরে কাজ চলমান অবস্থায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিলে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দিয়ে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে।
দোয়ারাবাজার সদরের দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজ থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে পূর্ব মছিমপুর পর্যন্ত এবং লক্ষীবাউর ও বেতুরা এলাকার নদী ভাঙন ঠেকানোর জন্য ১৯১ কোটি টাকার নদী শাসন কাজ চলছে। গেল নভেম্বর থেকে ওই এলাকায় ব্লক ফেলা এবং বিছানোর জন্য ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। এখনো ব্লক ফেলা হয় নি। ব্লক তৈরিতেও অনিয়মের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা বলেছেন, ব্লক তৈরিতে কাটা পাথরের বদলে সিঙ্গেল ব্যবহার হচ্ছে। মাটিযুক্ত বালুও দেওয়া হচ্ছে শুরু থেকেই।
ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদী ভাঙন থেকে দোয়ারাবাজারকে রক্ষার জন্য ১৯১ কোটি টাকার নদী শাসনের কাজ হচ্ছে। গেল জুন মাসে এই প্রকল্প অনুমোদিত হয়ে ঠিকাদার নিয়োগ শেষে নভেম্বর থেকে ব্লক বিছানোর কাজ হচ্ছে। এরমধ্যেই গেল মার্চ মাস থেকে উপজেলা সদরের মাজেরগাঁও, মংলারগাঁও, পুর্ব মাছিমপুর, পশ্চিম মাছিমপুর ও মুরাদপুর গ্রামে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। পূর্ব মাছিমপুরের ১৮ টি পরিবার এরমধ্যেই ভিটে-মাটি হারিয়ে দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। অর্ধশতাধিক পরিবার পাশের সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যদের বাড়িতে ওঠেছে কেউ কেউ।
মঙ্গলবার রাতে মাজেরগাঁও গ্রামের সফিকুল ইসলাম, সমর আলী ভুট্টুসহ একই পরিবারের তিন ভাইয়ের ভিটে-মাটি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। মুরাদপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা লালা মিয়ার বাড়ি যে কোন সময় তলিয়ে যাবে। গত রোববার ও সোমবার দুইদিনে একই গ্রামের সামছুদ্দিন মিয়ার আধাপাকা বাড়িটি নদীগর্ভে গেছে। পুর্বমাছিমপুর গ্রামের অতুল দাস, রাজেন্দ্র দাস ও বাবুল দাসের ভিটেও নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে।
ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে পুর্বমাছিমপুর গ্রামের পিয়মন দাসসহ আরো ৬ পরিবারের বাড়ি। গত দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে ভাঙন বেড়েছে।
মাজেরগাঁও গ্রামের সমর আলী ভুট্টু বলেন, এলাকার বড় বাড়িগুলোর একটি ছিল আমাদের। এখন মাথাগুজার ঠাই নেই আমার পরিবারের।
মুরাদপুর গ্রামের সামছুদ্দিন বললেন, দুই দিনে দেখতে দেখতে আমার শত বছরের বসতি নদী গর্ভে গেল।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বললেন, দোয়ারাবাজারের নদী শাসনের জন্য ১৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। আবার নদী খননেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিসি ব্লক বানানো চলছে। টার্গেট অনুযায়ী ব্লক বানানো শেষে আগামী শীত মওসুমে পানি যখন কম থাকবে তখন ব্লক ফেলা এবং বিছানো হবে। এরমধ্যে প্রকল্প এলাকায় বড় ভাঙন দেখা দিলে, ঠিকাদারকে দিয়ে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ করা হবে। গত কয়েকদিন ধরে ভয়াবহভাবে নদী ভাঙছে, কি উদ্যোগ নেওয়া হবে জানতে চাইলে, তিনি অপর নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুদ্দোহাকে ফোন করার কথা বলেন।
অপর নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুদ্দোহা বললেন, ঠিকাদার এভাবে নদী ভাঙন ঠেকানোর কাজ হয়তো করবে না। আমরা ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। এই বিষয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শমশের আলী ভাল জানবেন বলে জানান তিনি।
উপ-বিভাগীয় শমসের আলী জানালেন, বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন তারা। শমশের আলী বললেন, ওখানে বোল্ডার ভেঙে কাটা পাথরই ব্যবহার করা হচ্ছে । সাদা বালি না পেয়ে পরিস্কার মোঠা বালি ব্যবহার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কাজে অনিয়মের সুযোগ নেই। ট্রাস্কফোর্স এসে দেখে যে কোন ব্লকই বুয়েটে পরীক্ষার জন্য পাঠাতে পারে। পরীক্ষায় সঠিক পাওয়ার পরই ব্লক বিছানো বা ফেলার কাজ হবে।