আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার
দোয়ারাবাজার উপজেলায় ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলায় ব্যাপক লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। কখনো রাতব্যাপী আবার কখনো দিনব্যাপী চলে বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হচ্ছে। আগে ঝড় তুফান হলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হত। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। গ্রিডে ডিউটিরত কর্মচারীগণ রাতের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে পুরো রাত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখেন পুরো উপজেলা।
এদিকে ছাতক-দোয়ারাবাজারের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ্ আল মামুনের বিরুদ্ধে এলাকায় না থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সিলেটের বাসা থেকে ছাতকের অফিসে আসেন প্রতিদিন বেলা ১১টায়, আবার কোন দিন আসেন ১২টায়। অফিস থেকে চলে যান আছরের আগেই। এতে নিচের কর্মকর্তারাও ইচ্ছে মাফিক কাজ করেন।
এদিকে করোনাকালেও ভুতুড়ে বিল পরিশোধে বাধ্য বাধ্য করা হয়েছে গ্রাহকদের। বর্তমানে কারো কারো গতানুগতিকের চেয়ে দুইগুণ তিনগুণ বিল ও এসেছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। মিটার ইন্সপেক্টর এলাকায় না এসেই ঘরে বসে তার মনগড়া ইউনিট লিখে বিল চাপিয়ে দিচ্ছেন গ্রাহকদের।
এছাড়াও বিদ্যুতের বিভ্রাটের কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, দোকানপাঠ। ক্ষতি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার।
অটো রিক্সার ড্রাইভার ইয়াকুব আলী বলেন, প্রতিদির রাতে বিদ্যুৎ থাকে না। সকালে ব্যাটারী চার্জ দিতে হয়। পুরো দিন রোজী করতে পারি না। খুব সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতের কারণে।
মিথিলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ডক্টর চেম্বারের ল্যাব ইনচার্জ মো. নাজমুল হোসেন বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীদের পরীক্ষা নীরিক্ষার রিপোর্ট সময়মতো প্রদান করতে পারি না। এতে দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ভোগান্তি শিকার হন।
ছাতক দোয়ারার দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, ছাতক থেকে দোয়ারাবাজারে দৈর্ঘ্য ৮৬ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে। এর যে কোন এক জায়গায় সমস্যা হলেই গ্রীডে লাইন বন্ধ করতে হয়।
দেরিতে অফিসে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সিলেটের বাসায় থাকি তা ঠিক। তবে আমি প্রতিদিন সময় মত অফিসে আসি।


