দোয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

বিন্দু তালুকদার
দোয়ারাবাজার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের অফিসারসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ আদায়, হয়রানী ও এক মালিকের জমি অন্য মালিকের নামে রেকর্ড করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের ১৮ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দোয়রাবাজার জোনের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকার মোবারকনগর গ্রামের ভুক্তভোগী হুমায়ুন রশিদ।
গত ১৩ জুন আদালতে এই অভিযোগটি দাখিল করেন তিনি। সিআর মামলা নং- ১১৫, তারিখ:১৩/০৬/২০১৬ ইং। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে, সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার মোজাম্মেল হোসেন, জিতেন্দ্র চন্দ্র দাস, আবুল কাসেম, আপত্তি অফিসার সোহরাওয়ার্দ্দি, সুজন কান্তি দাস, আব্দুল মতিন, খারিজ অফিসার চৌ থুই প্রু মামরা, ড্রাফটম্যান নুহে আলম, সার্ভেয়ার শাহাজাহান, নাহিম, আব্দুল বাছদ, মাহমুদুল হাছান,  সরদার আমিন দুলাল মিয়া, আমজদ আলী, বদর আমিন নুরুল আমিন, পেশকার তাপস দাস, আমিন সুরুজ্জামান ও পিয়ন আব্দুল শহীদকে। আদালতের আদেশের কপিটি রবিবার দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. কাওসার আলম।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ মে অভিযোগকারী হুমায়ুন রশিদ উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে গেলে সহকারি অফিসার ও আপত্তি অফিসারগণ বলেন, তার ১৫ একর জমির মূল অনুযায়ী প্রতি শতাংশ এক হাজার টাকা দরে মূল দামের ১০ ভাগ টাকা  দেড় লাখ টাকা উৎকোচ দিতে হবে। টাকা না দিলে তার জমি রেকর্ড করবেন না। একইভাবে এলাকার আজমপুর গ্রামের কামাল হোসেনের কাছে ২ লাখ ৭ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন।
চাহিদামত টাকা না দেয়ায় তাদের জমির এসএ রেকর্ড খারিজ ও বাতিল করে করে দিয়েছেন। বিভিন্ন মৌজার জমির মালিকদের নিকট থেকে অন্যায়ভাবে টাকা আদায়ের জন্য দালালদের মাধ্যমে খতিয়ানের উপর ভুয়া নাম-ঠিকানা দিয়ে আপত্তি তৈরি করে রেকর্ড সঠিক রাখার নামে প্রায় কোট টাকার প্রতারণা করেছেন।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. কাওসার আলম বলেন,‘আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন এবং তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের আদেশটি রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁেছছে। ’
উপজেলা সহকারি সেটেলমেন্ট অফিসার মোজাম্মেল হোসেন বলেন,‘ অভিযোগকারী হুমায়ুন রশিদ অন্যায় সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে আমাদেরকে হয়রানী করার জন্য এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন একটা অভিযোগ করছেন। হুমায়ুন রশিদ অন্যায় সুযোগ নেয়ার জন্য এক অফিসারকে অবৈধভাবে টাকা দিতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সরকারি আইন লঙ্ঘন করে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এলাকাই মাইকিং করেছিলেন। উচিত ছিল তার বিরুদ্ধে আমাদের আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ নেয়া। আমাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের জবাব দেব আমরা।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন,‘আদালতের কোন কাগজপত্র আমার কাছে এসে পৌঁছেনি। কাগজপত্র পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’