সু.খবর ডেস্ক
দ্বিতীয় দফায় গত ১ জুন থেকে গৃহস্থালি কাজে গ্যাসের যে দাম বাড়ানো হয়েছে তা অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। তবে জুন থেকে যে বিল নেওয়া হয়েছে তা এই রায়ের আওতার বাইরে থাকবে। গত ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টের দেওয়া এ সংক্রান্ত রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ জুন থেকে গৃহস্থালীর সংযোগে এক চুলার ক্ষেত্রে ৯০০ টাকা এবং দুই চুলার ক্ষেত্রে ৯৫০ টাকা করে মাসিক বিল আদায় করা হচ্ছে।
রোববার হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ১ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষ আর বাড়তি হারে বিল আদায় করতে পারবে না। তার আগেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি সবাইকে জানাতে হবে।
চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি দুই ধাপে গ্যাসের দাম বাড়ানোর আদেশ দেয় বিইআরসি। ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১ মার্চ প্রথম দফায় গৃহস্থালী সংযোগে এক চুলার ক্ষেত্রে মাসিক বিল ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা ও দুই চুলার ক্ষেত্রে ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় দফায় ১ জুন থেকে এক চুলার ক্ষেত্রে ৯০০ টাকা এবং দুই চুলার ক্ষেত্রে ৯৫০ টাকা করা হয়।
তবে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিইআরসি দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৭ ফেব্রুুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন ক্যাবের কনজ্যুমার কমপ্লেইন হ্যান্ডলিং ন্যাশনাল কমিটির আহ্বায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে পরদিন হাইকোর্ট রুলসহ দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে বিইআরসি আপিল করলে শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি গত ৩০ মে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং বিইআরসির আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান। গত ৫ জুন শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ চেম্বার বিচারপতির স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন। এছাড়া আপিল বিভাগের রায়ে এ বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।
সে অনুযায়ী রোববাল রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট দ্বিতীয় দফায় ১ জুন থেকে গৃহস্থালী সংযোগে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন।


