দ্রুত পানি বৃদ্ধিতে শাল্লায় কৃষকরা আতংকিত

স্টাফ রিপোর্টার, শাল্লা
উজানের পানি নেমে দাড়াইন নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। রবিবার রাতে প্রায় ৪ ইঞ্চি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উজানে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
কথাগুলো বলছিলেন শাল্লা উপজেলা কৃষক লীগ আহবায়ক রঞ্জিত কুমার দাস।
পাউবোর আওতায় না থাকায় উপজেলার ছোট ছোট বেশ কয়েকটি হাওর যেমন—শাল্লা সদরের নিকটবর্তী জোয়ারিয়া, কৌইয়া, কোনারবন, পুইট্টা, নাইপতার চর, দামপুর গ্রামের পাশে বাঘার হাওরের প্রায় ৩ হাজার একর বোরো ফসলি জমি হুমকির মুখে।
জোয়ারিয়া হাওরের কৃষক ঘুঙ্গিয়ারগাঁও গ্রামের মিটু চন্দ্র দাস রবিবার বেলা ১১টায় জানান, দুই বছর আগেও এই সব হাওরগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ নির্মাণ করেছিল। হঠাৎ করে বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করে দেওয়ায় আজ এসব ছোট হাওরগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। যদি আগামী ২/৩ দিন এই হারে পানি বৃদ্ধি পায় তাহলে ২০১৭ সালের মতো প্রলয়ংকরী অবস্থা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এসব হাওরের কৃষকরা তাদের একমাত্র স্বপ্নের ফসল রক্ষার্থে জমির পরিমান অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করে বাঁধে দিন রাত মাটি কাটছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ইউএনও এবং জনপ্রতিনিধিরা অনেকই বাঁধ পরিদর্শন করেছেন। এসময় সহায়তার আশ্বাসও দেন তারা, কিন্তু রবিবার ১১টা পর্যন্ত সরকারি কোন সহায়তা করা হয়নি।
জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক কালিপদ রায় বললেন, দাড়াইন নদীতে যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আতংকে রয়েছে কৃষকরা। লাখো কৃষকের মাঝে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
পুইট্টা হাওর পাড়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনাদী তালুকদার বলেন, ২০১৭ সালের পর চৈত্র মাসের এই সময়ে এতো পানি নদীতে আর দেখিনি। ছায়ার হাওরের বেরী বাঁধের বাইরের ছোট ছোট কয়েকটি হাওরের ফসল নিয়ে চিন্তায় আছি। কখন যে কি হয় বলা মুশকিল।
তিনি আরও বলেন, গত দু’বছর আগেও এসব হাওরে পাউবো বাঁধ নির্মাণ করেছিল, কিন্তু এবার করেনি। পাউবো এখানে প্রকল্প দিলে কয়েক হাজার একর জমি বন্যা থেকে নিরাপদে থাকতো। কৃষকের ঘুম হারাম হতো না।
সোমবার বেলা ১১টায় শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব জানান, বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি আমরা নজরদারি করছি। উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ২২টি ক্লোজারের সভাপতি ও সম্পাদকদের নিয়ে গতকাল রবিবার এক জরুরি সভা ডাকা হয়েছিল। সেই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে এই সব গুরুত্বপূর্ণ বাঁধগুলোতে রাতে পাহারা সহ ২৪ ঘন্টা নজরদারি রাখার জন্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সমস্যা সমাধানের জন্য একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।