দ্রুত পিআইসি গঠন শেষ করুন

ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নতুন কাবিটা নীতিমালা অনুসারে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন শেষ করার কথা। কিন্তু গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত এক সংবাদ থেকে জানা যায় জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ব্যতিত আর কোন উপজেলার পিআইসি গঠনের কাজ শেষ হয় নি। এবার জেলার ৫৪ টি হাওরে ১০৮৮ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বা পিআইসি’র মাধ্যমে বাঁধ সংস্কার ও নির্মাণের কাজ করা হবে। আগের মতো এ বছর ঠিকাদারি প্রথায় কোন কাজ হবে না। ছোট-বড় সকল বাঁধের কাজই হবে পিআইসি’র মাধ্যমে। সুতরাং সময়মত বাঁধ নির্মাণ শুরু ও শেষ করার জন্য পিআইসিগুলো সময়মত গঠন করা একটি আবশ্যকীয় বিষয় ছিল। এদিকে ১৫ ডিসেম্বর থেকে পিআইসিগুলো বাঁধের কাজ শুরু করে দেওয়ার কথা। কিন্তু কার্যত যেখানে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ পিআইসি গঠনই শেষ হয় নি সেখানে নির্ধারিত ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ যে শুরু করা যাবে না তা অনেকটা নিশ্চিত। এবার হাওরের পানি নামছে ধীর গতিতে। ফলে চাষাবাদ শুরু করতেও কৃষকদের বিলম্ব করতে হচ্ছে। উপরন্তু সাগরে নি¤œচাপের প্রভাবে গত দু’দিন ধরে একনাগারে হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই অকাল বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরের পানি নামতে আরও দেরি হবে। সবকিছু মিলিয়ে আসন্ন বোরো মৌসুমটি কেমন হবে তা ভেবে জেলার কৃষককূল একেবারেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত বছরের শতভাগ ফসল বিপর্যয়ের ধাক্কা কাটিয়ে কৃষকরা নতুন করে ফসল ফলানোর জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তাদের চোখে-মুখে উদ্বেগ, কিন্তু এই বোরো চাষাবাদ ছাড়া বিকল্প কোন ভাবনারও অবকাশ নেই। তাই এবার অন্তত যাতে মনুষ্যসৃষ্ট কোন কারণে ফসলের বিপর্যয় না ঘটে সে বিষয়ে সকলের সতর্ক থাকা আবশ্যক। নির্বিঘেœ বোরো ফসল গোলায় তোলার জন্য বাঁধ নির্মাণ কাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতিবৃষ্টি, অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে ফসল রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা রাখে এসব বাঁধ। গতবার বাঁধ নির্মাণে সীমাহীন বিচ্যুতির কারণে ফসল হানি ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার সরকার বাঁধ নির্মাণের পুরো নীতিমালাটিই বদলে দিয়েছেন। সরকার যে উদ্দেশ্যে নীতিমালা বদল করেছেন সেটি অনুধাবন করা বাঁধ বাস্তবায়নকারী সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। সময়মত পিআইসি গঠনে ব্যর্থতা নিশ্চয়ই কোন সুস্থ লক্ষণ নয়।
জেলা প্রশাসক বলেছেন, যথাশীঘ্র এসব পিআইসি গঠনের কাজ শেষ হবে। প্রশাসন ও পাউবো যৌথভাবে এবার বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করছেন। সরকার বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট উদারতা দেখিয়ে চলেছেন। তাই আমরা আশা করব, পদ্ধতিগত প্রক্রিয়াগুলো যাতে কোনভাবেই বিলম্বের শিকার না হয়।
পিআইসিতে অন্তর্ভূক্ত হতে বিভিন্ন জায়গায় কিছু অসাধু ব্যক্তিবর্গ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গতকাল আরেকটি সংবাদ থেকে জানা যায়। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনকে খুব কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে এবং যেকোন ধরনের তদবির এড়িয়ে চলতে হবে। অন্যদিকে তদারকি কমিটিগুলোকে একেবারে শুরু থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার বাঁধ নির্মাণে অতীতের মন্দ অভিজ্ঞতার ছিটেফোটাও যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেটিই আকাক্সক্ষা।