বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে নদীর পানি ধীরে কমায় এবং টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় কৃষক, স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি অফিস সহ সংশ্লিষ্ট সকলেই উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নদীর পানি টইটম্বুর অবস্থার মধ্যেই আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ভালো খবর নেই। এই অবস্থায় দ্রুত ধান কাটা ছাড়া উপায় নেই।
কৃষকেরা বলছেন এখনো ধান আধাপাকা। কিভাবে কাঁচা ধান কাটবেন তারা। কিন্তু নদীর পানি ধীরে কমা, অসময়ে নির্মিত দুর্বল বাঁধ দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার করচার হাওরের হরমোনিয়া বাঁধের পাশে সোমবার আধা পাকা ধান কাটছিলেন কৃষক মতিন মিয়া, দবির মিয়া ও উস্তার আলী।
কৃষক মতিন মিয়া বললেন, ‘গাঙের (নদীর) পারে হমান—হমান (সমান সমান) পানি, ধান না কাটলে মেঘ (বৃষ্টি) আইলেই পানির তলে ডুববো। কাটা ছাড়া উপায় নাই, অখন কাটলে আধাআধি পাইমু।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বললেন, নদীর পানি সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্ট ৫ দিনে মাত্র ১০০ সেন্টিমিটারের মতো কমেছে। রবিবার বিকাল ৩টায় শহরের পাশের ষোলঘর পয়েন্টে পানি ৪.৬১ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। হাওরের বিপদসীমার ১.৪৪ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে যাচ্ছে পানি। হাওরের বিপদসীমা ৬.০৫ সেন্টিমিটার। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ১৮ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন সুনামগঞ্জে ও উজানে বৃষ্টি হবে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ জানান, রবিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত সুনামগঞ্জে বৃষ্টি আছে। এরমধ্যে বেশি বৃষ্টি হবে ১৪, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল। ১৭ তারিখেও বৃষ্টি বেশি হবে। ১৮ তারিখ তাপমাত্রা বাড়ায় বৃষ্টি কমেও যেতে পারে। এই সময় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে ছাতকে, ওখানে ১৫২ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টি হতে পারে। উজানে ভারতের বরাক উপত্যকায় একই সময়ে বৃষ্টি আছে।
এই অবস্থায় সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগ থেকে ৮০ ভাগ পাকা বোরো ধান কেটে ফেলার জন্য জেলার কৃষকদের অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনও কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই মাসের প্রথম সপ্তাহে উজানের ঢলে বাড়া নদীর পানি ধীরে কমায় পানি অনেকটা স্থিতিশীল হয়ে আছে, এখন ঢল নামলে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ভাঙন ঠেকানো কঠিন। এই অবস্থায় সকলকে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত ধান কাটতে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
সুনামগঞ্জে এবার প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোর’র আবাদ হয়েছে। ২ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে উজানের ঢলে কিছু কিছু দুর্বল বাঁধ ভেঙে বড় দুটি হাওরসহ ১৫ হাওর ডুবেছে। সরকারি হিসেবে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ফসল ডুবেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৫ হাজার কৃষক। বেসরকারি হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা আরো বেশি।
- ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাঁধে পাহারা/ শঙ্কায় কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক
- বাংলার চিরায়ত উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি আজ


