দ. সুনামগঞ্জে নৌকা প্রত্যাশী ৪৮ জন

ইয়াকবুর শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের সব কয়টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণাই বেশি। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৪৮ জন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী) প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিজের ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙাচ্ছেন। উপজেলা ও রাজধানী ঢাকায় কেউ কেউ দৌঁড়াচ্ছেন দলীয় মনোনয়নের আশায়।
সুনামগঞ্জ-৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের আশির্বাদপুষ্ট হতে যারপরনাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। অনেকেই দলীয় মনোনয়ন পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা তদবির শুরু করেছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন কর্মঠ, ত্যাগী, জনবান্ধব ও যোগ্য ব্যক্তিকেই করা হবে নৌকার মাঝি। নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজয় বরণ করে এমন কোনো ব্যক্তিকেই নৌকা প্রতীক না দেওয়ার আহ্বান তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের।
জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটিতেই নৌকা প্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যা একাধিক। ৪৮ জন প্রার্থী নৌকা প্রতীক পেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। নৌকা প্রতীক চেয়ে সবচেয়ে বেশি প্রার্থীর প্রচারণা চালতে দেখা যাচ্ছে উপজেলা সদর ইউনিয়ন জয়কলসে।
এখানে ৮ জনের প্রচারণা চোখে পড়ার মতো। বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ মিয়া ছাড়াও মনোনয়ন পেতে আগ্রহীরা হচ্ছেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ স¤পাদক মনিরুজ্জামান সুজন, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক স¤পাদক আবদুল বাসিত সুজন, আওয়ামীলীগ নেতা আবদুল লতিফ কালাশাহ, মিশিগান আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আপ্তাব মিয়া, যুবলীগের সহ-সভাপতি রাজা মিয়া, যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ তারেক ও মটর শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল আউয়াল।
দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে পশ্চিম বীরগাঁও ও দরগাপাশা ইউনিয়নে ৬ জন করে ১২জন প্রচারণায় আছেন।
পশ্চিম বীরগাঁওয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা শাহীন মিয়া, হযরত আলী, জসিম উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম ও সৈয়দ হোসেন রানা। দরগাপাশায় বর্তমান চেয়ারম্যান মনির উদ্দিন, দরগাপাশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু খালেদ চৌধুরী রুবেল, দরগাপাশা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ স¤পাদক সালেহ আহমদ চৌধুরী হীরা, আওয়ামীলীগ নেতা মাহবুল হক শাহীন, এ্যাডভোকেট আলী শাহান ও আব্দাল চৌধুরী।
নৌকা পেতে ৪ প্রার্থী জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- রাইজুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান শহিদ ও ইংল্যান্ড প্রবাসী রুবেল মিয়া। এছাড়াও বর্তমান চেয়ারম্যান নূর কালামও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে প্রচার রয়েছে।
পূর্ব পাগলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রফিক খান, যুগ্ম-সাধারণ স¤পাদক এনামুল কবির এনাম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ স¤পাদক ফয়জুল করিম ও আওয়ামীলীগ নেতা আসাদুর রহমান।
পাথারিয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রত্যাশী প্রার্থীর সংখ্যা ৪জন। প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা শামসুল ইসলাম রাজা, সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও যুবলীগ নেতা বাবুল হোসেন কাজ করছেন দলীয় মনোনয়ন পেতে।
শিমুলবাকে প্রচারণা করছেন ৪জন। বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জিতু, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ স¤পাদক আতাউর রহমান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা শাহীনুর রহমান শাহীন। সবচেয়ে কম প্রার্থী মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে। ৩জন প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের হয়ে। এরা হলেন- বর্তমান চেয়ারম্যান নূরুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান ও পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জগলুল হায়দার এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম টিপু।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, আমরা এখনো দেখছি। অনেকেই যোগাযোগ করছেন। প্রার্থীতা চেয়ে প্রচারণা সকলেই করতে পারেন। এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। আমরা অবশ্যই যোগ্য ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়ে মনোনয়ন দেওয়ার অনুরোধ করবো।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের একান্ত রাজনৈতিক সচিব মো. হাসনাত হোসেন বলেন, আমরা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। নির্লোভ, জনবান্ধব, পরোপকারী ও ত্যাগী নেতারা মনোনয়নের ব্যাপারে প্রাধান্য পাবে বলে মনে করি আমি। যোগ্য মাঝি ঠিক করে তার হাতেই নৌকা তুলে দেবেন দায়িত্বশীলরা।