ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ.সুনামগঞ্জ
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহার করার জন্য পরিপত্র জারি করেছে সরকার। যদি কেউ মাস্ক ব্যবহার না করেন তাহলে শাস্তির বিধানও রাখা হয় সেই পরিপত্রে। কিন্তু দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় মাস্ক ব্যবহার করছেন না অধিকাংশ লোকই। সব কিছ্ইু চলছে আগের মতোই, স্বাভাবিকভাবে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা, স্বাস্থ্যবিধি মানা কিংবা মাস্ক ব্যবহারের কোনো বালাাই নেই মানুষের। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এ ব্যাপারে জনসাধারণকে সচেতন করতে উপজেলার স্থানীয় প্রশাসনকেও এখনো পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।
একাধিক ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে করোনা ভাইরাস নির্মূল হয়নি। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। সুতরাং কোনোভাবেই ভাইরাসটাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। মানুষ যেভাবে অসচেতন হয়ে চলছে তাতে সংক্রমণ আরও বাড়বে।
মাস্ক ব্যবহার করার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, দুই ব্যক্তির মধ্যে যিনি মাস্ক ব্যবহার করবেন তার আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা ৫০ শতাংশ। আর যদি দু’জনই মাস্ক ব্যবহার করেন তাহলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা ৫ থেকে ১০ শতাংশ। আর যদি কেউই মাস্ক ব্যবহার না করেন তাহলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। মাস্ক ব্যবহার না করলে বাড়বে করোনা সংক্রমণ। তাই একটু কঠোর হয়ে হলেও মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতে বাধ্য করতে হবে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনকে আইনের যথাযত প্রয়োগ করতে হবে বলে পরামর্ম দেন ডাক্তার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সচেতন মহল।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে ভিড় বাড়ছে মানুষের। পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি বাজার ও বীরগাঁও বাজারের অবস্থা দেখলে করোনা আছে বলে মনেই হবে না। পাগলা বাজার ও শান্তিগঞ্জ বাজারে লোক সমাগম হয় বেশি। সড়ক ঘেঁষা বাজার হওয়ায় দু’চারজনের মুখ মাস্কে ঢেকে রাখলেও মাস্কহীন চলাফেরা করেন অধিকাংশ লোকজন। পাথারিয়া বাজার, নোয়াখালী, আক্তাপাড়া মিনাবাজার বা বিভিন্ন গ্রামের পয়েন্টে পয়েন্টে মাস্ক ব্যবহার করা বা স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, সাধারণ মানুষ সচেতন নন। তাদেরকে সচেতন করতে হবে। আমরা এ কাজটি করছি। স্থানীয় প্রশাসনও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষকে বাধ্য করতে হবে মাস্ক ব্যবহারের জন্য। না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোক্তাদির হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। এদিকে আমাদের নজরে আছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে দ্রুত এব্যপারে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেবুন নাহা শাম্মী বলেন, এ বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উপজেলার রাজস্ব খাত থেকে কিছু টাকা তুলে আমরা মাস্ক কিনে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করবো। প্রথমে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করবো। ইতোমধ্যে আমরা গণপরিবহনে মানুষকে সচেতন করার কাজ হাতে নিয়েছি। জনস্বার্থে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হবে।


