বিশেষ প্রতিনিধি
বিশ্বম্ভরপুরে জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের গন্ধর্বপুর গ্রামের দুই গরু ব্যবসায়ীর ১৫ টি গরু আটক করে হয়রানি করার অভিযোগ ওঠেছে। শুক্রবার দুপুর ১২ টায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চরগাঁও গ্রামের কাছে এই ঘটনা ঘটে। হয়রানির শিকার দুই গরু ব্যবসায়ী হলেন, রানীগঞ্জ ইউপির গন্ধর্বপুর গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে সৈয়দ দিলদার আলী ও একই গ্রামের শায়েস্তা মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া।
রবিবার বিকালে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর অফিসে এসে পুরো ঘটনা খুলে বলেন এই দুই ব্যবসায়ী। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার ও মাছিমপুর বিওপির বিজিবির সদস্যরা তাদের হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ করেন এরা।
গরু ব্যবসায়ী সৈয়দ দিলদার আলী ও শিপন মিয়া বলেন,‘গত বৃহস্পতিবার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজার থেকে ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকায় ১৫টি বখনা বাছুর জাতের গরু কিনি আমরা। পরে শুক্রবার গরুগুলো একটি ট্রাকে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হই। পথে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চরেরগাঁও গ্রামের কাছে আসলে মাছিমপুর বিওপির বিজিবির লোকজন গরুসহ গাড়ি আটক করেন। এসময় ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার এসে উপস্থিত হন। গরুগুলি বাদাঘাট বাজার থেকে বৈধভাবে ক্রয় করেছি দাবি করলেও বিজিবির সদস্যরা আমাদের কোন কথা শুনেননি। পরে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা মনোয়ারা খাতুন
ঘটনাস্থলে এসে গরুগুলি ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। বাদঘাট বাজারের ইজারাদার হাজী বাচ্ছু মিয়াও বলেন, গরুগুলো বাদাঘাট বাজার থেকে কেনা হয়েছে। কিন্তু বিজিবির সদস্যরা আমাদের গরুগুলি ফেরত দেননি। পর দিন শনিবার আমরা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদারের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ৮টি গরু ফেরত পাই। বাকী ৭টি গরু এখনো ফেরত পাইনি।’
বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের (৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড) এর ইউপি সদস্যা মনোয়ারা খাতুন বলেন,‘জগন্নাথপুরের দুই ব্যবসায়ী বাদাঘাট বাজার থেকে ১৫ টি গরু কিনেছেন এবং এর সত্যতা যাচাই করার জন্য আমিও অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। পরে শুনেছি তারা ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ৮ টি গরু ফেরত নিয়েছেন।’
বাদাঘাট বাজারের গরুর হাটের ইজারাদার হাজী বাচ্ছু মিয়া বলেন,‘জগন্নাথপুরের দুই গরু ব্যবসায়ী বাজার থেকে ১৫টি গরু কিনেছেন। চিনাকান্দি বাজারের ইজারাদার ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার তাদেরকে অযথাই হয়রানি করছেন। তাকে (চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার) গরু কেনার রশিদের টাকা দিলেই আর কেউ হয়রানির শিকার হয় না। তার বাজারে গরুর রশিদ না করলেই যত হয়রানি।’
ধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন,‘ আমি এসব ঘটনার জড়িত নই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্যার ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমি চিনাকান্দি বাজারের ইজারাদার নই। এই বাজার নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি মামলা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথে আমি সেই মামলার বিবাদী। জগন্নাথপুরের গরু ব্যবসায়ীদের গরু আটকের পর বাদাঘাট বাজারের ইজারাদার বিজিবির কাছে ফোনে বলেছিলেন তাদের বাজার থেকে ৬-৭ টি গরু কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। তাই বিজিবির লোকজন ৮টি গরু ছেড়ে দিয়েছেন। টাকা নিয়ে গরু ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ মিথ্যা। আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেই নি। বিজিবির লোকজন গরুর মালিক ও বিক্রেতাদের আনার জন্য বলেছিলেন তারা আনতে পারেন নি। ’
এ ব্যাপারে বিজিবির মাছিমপুর বিওপির হাবিলদার মো. শাহাজাহান বলেন,‘গরু আটকের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। আমি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। যিনি গরু আটক করেছিলেন, তিনি হেডকোয়ার্টারে চলে গেছেন। এ বিষয়ে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারব না। হেড কোয়ার্টারে কথা বলেন।’
বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলেছেন বিজিবি-২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাসির উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন,‘গরু ব্যবসায়ীদের দাবি ও অভিযোগ সঠিক নয়। ওই গরুগুলি ভারতীয়। অবৈধপথে ভারত থেকে আনা হয়েছে। গরু চোরাচালানীরা এর সঙ্গে জড়িত। এরাই গরুগুলি এনেছিল। চোরাচালানীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আনায় গরু বিজিবির সদস্যরা আটক করেছে। টাকা নিয়ে ৮টি গরু ছাড়া হয়েছে তাও সঠিক নয়। বিজিবির কেউ তাদের কাছ থেকে কোন ধরনের টাকা নেয় নি। গরিব ব্যবসায়ীরা কান্না কাটি করায় ৮টি গরু ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গরুর বিক্রেতা ও মালিককে আমাদের কাছে আনার জন্য বলা হয়েছিল, গরু ব্যবসায়ীরা বিক্রেতা বা মালিককে আনতে পারে নি।’


