ধর্মপাশার পাউবো প্রকৌশলী অব্যাহতি চাইলেন

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ধর্মপাশা উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম হাওর রক্ষা বাঁধের কাজের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। রবিবার কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জেলা কমিটির সভায় তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরে অব্যাহতি চান। এই প্রকৌশলী জানান, ধর্মপাশার চামরদানি ইউপি চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না তাকে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। চেয়ারম্যান অন্যায়ভাবে কয়েকটি পিআইসি’র কমিটি পরিবর্তনের দাবি করেন, তার কথা মতো কাজ না করায় উপসহকারীর ধর্মপাশার অফিসে ঢুকে তাকে মারতে উদ্যোত হন। এ ব্যাপারে শুক্রবার ধর্মপাশা থানায় জিডি করা হয়েছে বলে জানান ওই প্রকৌশলী।
প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম জানান, ধর্মপাশায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মার্ণের জন্য ১৫৯টি পিআইসি গঠন হয়েছে। এসব পিআইসি থেকে চারটি পিআইসি পরিবর্তন করার জন্য গত কয়েকদিন ধরেই চাপ দিচ্ছিলেন ইউপি
চেয়ারম্যান মান্না। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় উপজেলা সদরের হাসপাতাল রোডের কার্যালয়ে ঢুকে তিনি তাকে মারতে উদ্যোত হন। এসময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মান্না। ইউপি চেয়ারম্যান গুরমা ও কাইলানী হাওরে চারটি পিআইসি পরিবর্তনের জন্য ওই প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন। উপসহকারী মাহমুদুল ইসলাম তাকে জানান, উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া এই কমিটি পরিবর্তন করা যাবে না। এছাড়া এখন বাঁধের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এখন আর পিআইসি পরিবর্তন করা যাবে না। পরে গালাগালি করে হুমকি দিয়ে যান ইউপি চেয়ারম্যান।
সভায় মাহমুদুল ইসলাম হাওররক্ষা বাঁধ নির্মাণকালীন সময়ে নিজের অব্যাহতি চান।
পরে সভার সভাপতি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শরিফুল ইসলাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল ইসলামকে এই বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেন।
অভিযোগের বিষয়ে চামরদানী ইউপির চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নান’র বক্তব্য জানার জন্য কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। এই ইউনিয়নে পিআইসি গঠন করা নিয়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। এখানকার গুরমা ও কাইলনী হাওরে চারটি পিআইসি গঠন নিয়ে অনিয়ম থাকায় আমি এগুলো পরিবর্তনের জন্য তাঁকে সুপারিশ করেছিলাম। ওই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও তাঁকে দেখে নেওয়ার জন্য আমি কোনো হুমকি দিইনি। জিডির কথা শুনে আমি নিজেই হতবাক হয়েছি।’