ধর্মপাশায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ডুবতে পারে নৌকা

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগ মনোনীত অধিকাংশ চেয়ারম্যান প্রার্থীর নৌকার ভরাডুবি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও আবার অনেকেই ব্যক্তিগত ক্রোধ ও স্বার্থজনিত কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের রোষানলে দলীয় প্রার্থীরা পড়েছেন বেকায়দায়।
এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ২৩ জন বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না থাকায় বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের জামাল হোসেন নামের আওয়ামী লীগের এক বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যায়। এছাড়াও চামরদানি ইউনিয়নে মিল্টন তালুকার, মধ্যনগর ইউনিয়নে সাখাওয়াত হোসেন ও সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নে মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার নামে তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন ছাড়া বাকি ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ১৯জন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এবারের নির্বাচনে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হলেন, ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নে ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, সেলবরষ ইউনিয়নে আলাউদ্দিন শাহ, পাইকুরাটি ইউনিয়নে মো. ফেরদৌসুর রহমান, জয়শ্রী ইউনিয়নে সঞ্জয় রায় চৌধুরী, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নে ফরহাদ আহমেদ, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে মো. মোকাররম হোসেন, মধ্যনগর ইউনিয়নে প্রবীর বিজয় তালুকদার, চামরদানি ইউনিয়নে আলমগীর খসরু, বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে আ. ছাত্তার ও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে আজিম মাহমুদ।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন, ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নে সেলিম আহমেদ, সেলবরষ ইউনিয়নে আবু হেনা লিটন, মো. নূর হোসেন, বেনজির আহমেদ তালুদার, পাইকুরাটি ইউনিয়নে আ.লীগ মোজাম্মেল হক, মো. রেহান উদ্দিন, এসএম সুজিত, মতীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নে মুহিত লাল তালুকদার, সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে আ.লীগ আমানুর রেজা, মোকাব্বির হোসেন, পরিতোষ সরকার, চামরদানি ইউনিয়নে প্রভাকর তালুকদার পান্না, রাধিকা রঞ্জন, জাকিরুল আজাদ মান্না, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে সাইদুর রহমান   ও  আকরাম হোসেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিসের মধ্যে চরম বিরোধীতা ও মারমুখী অবস্থানের সৃষ্টি হয়। তখন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর কবির শামীম আহমেদ বিলকিসের পক্ষে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শামীম আহমেদ বিলকিস সদর ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘ ১৪ মাসের বিরোধীতা ভুলে গত ১৮ মে সহ-সভাপতিকে রেখেই মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সাথে আবারো হাত মেলান। তবে সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রার্থীদের সাথে কাজ করার ফলে আওয়ামী লীগের ভোটগুলো দুই ভাগে ভাগ হয়েছে। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা স্ব স্ব পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে আলাদা আলাদাভাবে কাজ করার বিষয়টি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জন্য সুফল বয়ে আনছে না।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলীয় নেতাদের বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে সদর ইউনিয়নে তাঁর আপন চাচা সেলিম আহমেদ ও সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহিত লাল তালুকদারের পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করেছেন। শামীম আহমেদ মুরাদের মত অনেক নেতাকর্মীই পরোক্ষভাবে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন।
অপরদিকে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগেও রয়েছে দ্বিধা বিভক্তি। ফলে মধ্যনগর থানার চারটি ইউনিয়নেও দলীয় কোন্দলের প্রভাব পড়তে পারে। যদি শেষ পর্যন্ত ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এক হতে পারেন তাহলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে নয়তো বিদ্রোহী প্রার্থীরাই এগিয়ে যাবেন।