ধর্মপাশায় জনপ্রতি ৫ কেজি করে চাল কম দিয়েছেন ওই ডিলার, সত্যতা মিলেছে তদন্তে

এনামুল হক, ধর্মপাশা
৩০ কেজি চালের মধ্যে ৫ কেজিই রেখে দিতেন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার। উপকারভোগীরা জিজ্ঞেস করলে কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি আবার কখনও বলেন, সরকার থেকে কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোনো উপকারভোগী এ নিয়ে অভিযোগ তুললে চোখ রাঙান ডিলার। ফলে উপকারভোগীরা পড়েছিলেন বিপাকে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন উপকারভোগীদের বক্তব্য ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীদেরও সরবরাহ করা হয় এসব ভিডিও চিত্র। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাধানী বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নে (একাংশ) নিযুক্ত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে চাল ওজনে কম দেওয়াসহ বিতরণ কার্যক্রমের নীতিমালা লংঘনের সত্যতা পেয়েছেন। ডিলার আব্দুল মজিদ ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয় ও উপকারভোগী সূত্রে জানা যায়, ওই ডিলারের আওতাধীন ৩৭০ জন উপকারভোগী রয়েছে। একজন উপকারভোগী প্রতি মাসে ৩০০ টাকার বিনিময়ে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারেন। কিন্তু ওই ডিলার আব্দুল মজিদ ৩০০ টাকার বিনিময়ে দুইজন উপকারভোগীকে ৫০ কেজি মাপের একটি বস্তায় চাল বিরতণ করেন। এতে করে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল পান উপকারভোগীরা। কখনও কখনও ২২/২৩ কেজি করেও চাল পেয়েছেন তারা। উপকারভোগীদের এমন বক্তব্যের ভিডিও চিত্র গত ১২ এপ্রিল রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়। গত ১৬ এপ্রিল মধ্যনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওই ইউনিয়নে মহিষখলা বাজারে ডিলারের বিক্রয় কেন্দ্রে তদন্তে যান এবং উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে এপ্রিল মাসের ৩০ কেজি চালের মধ্যে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণের সত্যতা পান। তদন্ত প্রতিবেদন গত রোববার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
মধ্যনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবিনাশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘উপকারভোরগীদের সাথে কথা বলে চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তালেব বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’