ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে চতুর্থবারে মতো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তলিয়ে গেছে আমন জমির ফসল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার খানেক পরিবার।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধর্মপাশা উপজেলার সদর, সেলবরষ, পাইকুরাটি ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনয়িনে ৪ হাজার ৪১৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা বন্যায় ধানের চারার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পুনরায় বীজ বপন করে চারা রোপন করলেও চতুর্থবারের মতো পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৪ হাজার ৪১৬ হেক্টর জমির মধ্যে ৭০০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি কিছুদিন স্থায়ী হলে
এবং পানি বৃদ্ধি পেলে পুরো আমন ফসল নষ্ট হতে পারে। এদিকে উপজেলার জয়শ্রী, মধ্যনগর, চামরদানি ও বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ১ হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস। তিনি শনিবার দুপুরে জানান, ‘পানি স্থিতিশীল রয়েছে। বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে না। যদি বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে নতুন করে কোনো পরিবার পানিবন্দী হবেনা।’
সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের কৃষক আমির উদ্দিন জানান, তিনি পাঁচ কেয়ার আমন জমি রোপন করেছিলেন। পুরো জমিই পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার পর্যন্ত পানি বেড়েছে।পানি যদি দুয়েকদিনের মধ্যে নেমে যায় তাহলে ফসল রক্ষা পাবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে শুকনো খাবার, আবাসনসহ যে কোনো সংকট মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।’
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন বলেন, ‘বিগত সময়েও আমরা জনগণের পাশে ছিলাম। জনগণকে ধৈর্য্যের সাথে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।’


