ধর্মপাশা প্রতিনিধি
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে তলিয়ে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় ৩৪২টি পুকুরে মাছ চাষীদের ৮ কোটি টাকার অধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মৎস্য চাষীরা। তাই বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করার দাবি ওইসব মৎস্য চাষীদের।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় ও স্থানীয় মৎস্য চাষী সূত্রে জানা যায়, ধর্মপাশা উপজেলা সদর, সেলবরষ, পাইকুরাটি, মধ্যনগর, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ও বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের ৩৪২টি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ হয়। এ ছাড়াও ছোট বড় আরও ৭১৩টি পুকুরে প্রাকৃতিকভাবে মাছের সংরক্ষণ রয়েছে। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় ওই সমস্ত পুকুর ডুবে গিয়ে ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর। ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীরা এতে চরম বিপাকে পড়েছেন। মৎস্য চাষীরা জানিয়েছেন এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদের অনেক বেগ পোহাতে হবে।
মধ্যনগর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের মৎস্য চাষী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নিজ গ্রামে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করে ৬৪ কাটা পরিমাণের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছিলাম। যা থেকে ৩০/৩৫ লাখ আয় হতো। কিন্তু বন্যায় পুকুর ডুবে সব মাছ বেরিয়ে গেছে। এতে আমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা না করা হলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।’
সদর ইউনিয়নের টানমেউহারী গ্রামের গ্রামের মৎস্য চাষী মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমি ও আমার ছোট ভাই মিলে একাধিক পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। বন্যার পানিতে পুকুরের পাড় ভেঙে যাওয়ায় মাছ বেরিয়ে গেছে। এতে ৭/৮ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. সালমুন হাসান বিপ্লব বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষীদের তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’
- নতুন নতুন এলাকা বন্যা কবলিত, নদীর পানি কমছে লোকালয়ে বাড়ছে
- বিশ্বম্ভরপুরে বন্যার পানি কমছে, বাড়ছে দুর্ভোগ


