এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ধর্মপাশায় সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ আহমদকে নির্বাচনী প্রচারণা ও পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোহিত লাল তালুকদার ওরফে মুনের বাবা মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ফরহাদ আহমেদ।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ আহমেদ সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার আওয়ামী লীগের মনোয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি এবং তাঁর ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের অনুমোদিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহিত লাল তালুকদার ওরফে মুন দুজনেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র জমা দেন। পরে মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও তার পুত্র মুন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থেকে যান।
এদিকে সোমাবর দুপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ আহমদের কর্মী সমর্থকেরা তাঁর নির্বাচনী এলাকা সুখাইড় বাজার ও সুখাইড় গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা এবং পোস্টার লাগাতে যায়। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর বাবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ্র তালুকদার ও তাঁর লোকজন ফরহাদ আহমদের লোকজনদেরকে প্রচারণা ও পোস্টার লাগাতে বাধা দেন। পরে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা ফরহাদ আহমদের কর্মী সমর্থকদেরকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। এ অবস্থায় ফরহাদ আহমদের নির্বাচনী প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ মনোনীত ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরহাদ আহমেদ বলেন,‘গত সোমবার দুপুরে আমার নির্বাচনী এলাকা সুখাইড় বাজার ও গ্রামে আমার লোকজন পোস্টার লাগাতে এবং প্রচারণায় গেলে বিদ্রোহী প্রার্থী মুহিত লাল তালকুদারের বাবা মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার ও তাঁর লোকজন এতে বাধা দেয়। পরে তাঁদেরকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কায় আমার লোকজন পোস্টার না সাঁটিয়ে সেখান থেকে চলে আসে। এতে করে আমার প্রচারণা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।
অভিযুক্ত মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট দাবী করে জানান, আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচনে ফায়দা নেওয়ার জন্য এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ বিলকিস বলেন,‘দলের সেক্রেটারি হিসেবে বিষয়টি আমাকে এখনো জানানো হয়নি। জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ওই ইউনিয়নের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন জানান, তিনি এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


