ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর কবিরের (২৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে মানবন্ধন করেছে একটি মহল। রোববার বিকেলে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন আয়োজনকারী তরুণেরা আলমগীরের মৃত্যুকে অস্বাভাবিক মৃত্যু দাবি করে তার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। গত বৃস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার কলেজ রোডস্থ তার বাসা সংলগ্ন একটি গাছ থেকে আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিজেদের আলমগীরের শুভাকাঙ্খী দাবি করে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, আপন দেবনাথ, মৃম্ময় নিলয় কর, আব্দুর রউফ ইয়াসিন, মুবিন আনসারি প্রমুখ।
আলমগীর কবির ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও ময়মনসিংহ সৈয়দ নজরুল কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি শেষ করে শাবিপ্রবিতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হয়েছিল। তখন একাডেমিক পড়াশোনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল এবং হতাশাগ্রস্থ হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন না করেই বাড়ি ফিরে আসে। তখন সে মাদকাসক্ত থাকায় এবং অগোচালো জীবন যাপন করিছল বলে পুলিশকে জানায় তার পরিবারের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার মরদেহ বাড়ি সংলগ্ন একটি গাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরের দিন শুক্রবার দুপুর দুইটায় তাকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়।
মানববন্ধনে থাকা তরুণ আপন দেবনাথ বলেন, ‘ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন করায় মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হয়নি। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কথা বলে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়েছে। তাই মৃত্যুর সুষ্টু তদন্ত দাবি করছি।’
আলমগীরের বড় ভাই মো. আল আমিন বলেন, ‘যারা মানববন্ধন করেছে তারা আলমগীরের জুনিয়র হলেও একসাথে চলাফেরা করতো। তাই হয়তো তারা আলমগীরের মৃত্যুটা মেনে নিতে না পেরে আবেগে মানববন্ধন করেছে। আলমগীর নেশাসক্ত থাকায় ২০১৭ সালে তাকে নেত্রকোনায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। আত্মহত্যা করায় ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের জন্য আমরা পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলাম। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।’
আলমগীরের পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার আবেদন করা হয়েছিল জানিয়ে ধর্মপাশা থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে অপমত্যৃ মামলা হয়েছে। তার (আলমগীর) পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই।’
- বীর মুক্তিযোদ্ধা জজ মিয়া আর নেই
- সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি-মুক্তিযোদ্ধাদের স্থান না হওয়ায় কমান্ডারের ক্ষোভ, পদত্যাগের হিড়িক


