এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
‘বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদর ঘাট’ প্রচলিত এমন কথার সাথে হাওরাঞ্চল ধর্মপাশা উপজেলার গণপাঠাগার/লাইব্রেরী ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির বেশ সাদৃশ্য রয়েছে। উপজেলা গণপাঠাগার ৯ বছর ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে।
উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত উপজেলা গণপাঠাগারকে বাইরে থেকে দেখতে বেশ চকচকে মনে হলেও ভেতরে পুরোটাই ফাঁকা। ২০০৮ সালে পাঠাগারের বইপত্র চুরি হওয়ার পর এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পাঠাগারের সামনের অংশ তখন জনসাধারণের মূত্রত্যাগের অন্যতম জায়গায় পরিণত হয়েছিল। এটি চালুর দাবিতে ২০১৩ সালে স্থানীয় সচেতন ছাত্র সমাজের ব্যানারে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। ধর্মপাশা থানার তৎকালীন ওসি ওই বছর ‘এখানে প্র¯্রাব করা নিষেধ’ লেখা সমৃদ্ধ একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছিলেন। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সম্প্রতি এটিতে চুনকাম করে চকচকে করা হয়েছে।
অপরদিকে ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের ধর্মপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে অবস্থিত উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির অবস্থাও একই রকম। বাইরে থেকে ফিটফাট আর ভেতরে সদর ঘাট। কিছুদিন আগে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে রং করা হয়েছে। ভাঙা দরজা জানালা মেরামত করা হয়েছে। ঝুলানো হয়েছে নতুন তালা, নতুন সাইনবোর্ড। কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিপাটি শিল্পকলা একাডেমির ভবন জনসাধারণের মলমূত্র ত্যাগের অন্যতম স্থানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভবনের ভেতর গেল বছর মলমূত্র আর আবর্জনার স্তুপ তৈরি হয়েছিল । তখন স্থানীয় কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী ময়লা আবর্জনা ধুয়ে মুছে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন
করেছিলেন। সংস্কৃতিকর্মীরা এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে একাধিকবার আলোচনা করলেও ‘যেই লাউ সেই কদু’ই থেকে যায়। এর আগে ২০১৪ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে সেই কমিটি সফলতার মুখ দেখেনি। ফলে এ উপজেলায় সংস্কৃতি চর্চা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এখন উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির আশপাশে মাদকদ্রব্য ব্যবহারের বিভিন্ন চিহ্ন পাওয়া যায়।
জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ এ দুটি প্রতিষ্ঠান চালুর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নীরবতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের হাত থেকে রক্ষা করতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে অচিরেই একটি কমিটি গঠন করে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি চালু ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি আলোকিত মানুষ তৈরির সহায়ক হিসেবে উপজেলা গণপাঠাগারটিও চালুর দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ধর্মপাশা শাখার সভাপতি চয়নকান্তি দাস ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিদুল হক সাজু বলেন, ‘যদি কার্যক্রমই না থাকে তবে শুধু শুধু সংস্কার করে লাভ কি? গত বছর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করেছিলাম। কার্যক্রম চালু না হলে আবারও একই অবস্থা হবে।’
স্থানীয় কবি আনিসুল হক লিখন বলেন, ‘দিনদিন ধর্মপাশা উপজেলা শিল্প সাহিত্য চর্চায় পিছিয়ে পড়ছে। সুযোগ না থাকায় নতুন প্রজন্ম পাঠ্যবইয়ের বাইরে কোনো বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। অচিরেই উপজেলা গণপাঠাগারটি চালুর দাবি জানাই।’
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাবেল বলেন, ‘ধর্মপাশা উপজেলা শিল্পকলার একাডেমির কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কমিটি গঠন হলেই তা চালু হবে।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খন্দকার বলেন,‘স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়ে শিল্পকলার কমিটি গঠন করে এর কার্যক্রম দ্রুত চালু করা হবে এবং উপজেলা গণপাঠাগারটি চালুর চেষ্টা করা হবে।’
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।’


