Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
ধর্মপাশা সদর বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

ধর্মপাশা সদর বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন

বাংলাদেশের মফস্বল অঞ্চলে বাজার ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোন ধরনের পরিকল্পনার ছাপ দেখা যায় না। যার যেমন ইচ্ছা যেখানে সেখানে স্থায়ী অস্থায়ী দোকান খোলে বসেন। মফস্বলের যেকোন বাজারে গেলেই এমন অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার দৃশ্য চোখে পড়বে। রবিবার দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ধর্মপাশা উপজেলা সদরের বাজার নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাও একই ধরনের। উপজেলা সদর বাজারের খাদ্যগুদাম থেকে শয়তানখালী সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত প্রধান সড়কের উভয় পাশে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান। অথচ এসব অস্থায়ী দোকানের ঠিক পিছনেই রয়েছে বহু স্থায়ী দোকান ঘর। সড়কের পাশের অস্থায়ী দোকানের কারণে স্থায়ী দোকানদারদের ব্যবসা পরিচালনা করা এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থায়ী দোকানীরা অস্থায়ী দোকানগুলোকে বাজারের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থানান্তর করে তাদের ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি করার জন্য একাধিকবার প্রশাসনের নিকট আবেদন করেছেন। কিন্তু এতে কোন কাজ হচ্ছে না।
মূলত আমাদের কোন কাজেই পরিকল্পনার ছাপ চোখে পড়ে না। জাতি হিসাবে আমরা এখনও শৃঙ্খলাবোধ রপ্ত করতে পারিনি বোধ করি। অর্থনৈতিক দুরবস্থা এর অন্যতম কারণ। আমাদের মফস্বলের বাজারগুলো সাধারণত স্বল্পবিত্ত ব্যক্তিদের উপর নির্ভরশীল। এখানে যারা বাজার সওদা করতে আসেন তারা কিছুটা সস্তায় পণ্য কিনতে চান। দোকানীকে তাই নিজের দোকান সাজানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কৃচ্ছতার আশ্রয় নিতে হয়। ছোট ছোট দোকানদারদের এমন সামর্থ্যও নেই যে তারা নিজেরা দোকানঘর বানিয়ে সেখানে ব্যবসা করবেন। স্বল্প পুঁজির এই ব্যবসায়ীরা তাই রাস্তার ধারেকাছে দোকান সাজিয়ে বসে পড়েন। এতে যে পথচারী, যানবাহন ও স্থায়ী দোকানদারদের সমস্যা হয় সেটি তারা বুঝলেও না বুঝার ভান করেন। বাজার ব্যবস্থাপনার সাথে যারা জড়িত তারাও সড়ক দখল করে বসানো এইসব দোকানীদের নিবৃত করার কোন চেষ্টা করেন না। বা্জার যারা ইজারা নেন তারা বাজারের সৌন্দর্য, সুবিধা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার চাইতে টুল ট্যাক্স আদায় করাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। এক্ষেত্রে যত বেশি দোকান তত বেশি লাভ নীতিকেই তারা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। প্রত্যেক বাজারের জন্যই সরকার কর্তৃক গঠিত একটি বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির অস্তিত্ব রয়েছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এসব কমিটির কোন অস্তিত্ব বুঝা যায় না। সরকার থেকে যখন বাজার ইজারা দেয়া হয় তখন কিছু শর্তাবলী দেয়া হয়ে থাকে। পরে ইজারাদার ওই শর্ত কতটুকু মান্য করেছেন তা আর যাচাই করা হয় না। পরবর্তী ইজারার আগে যদি ইজারাদারের বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মনিটরিং সাপেক্ষে তাদের পরবর্তী ইজারায় অংশগ্রহণের যোগ বা অযোগ্য বিবেচনা করার বিধান প্রযুক্ত করা হত তাহলে ইজারাদাররা কিছুটা হলেও সতর্ক থাকতেন। এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিকেও সমান সক্রিয় থাকতে হবে।
ধর্মপাশা উপজেলা সদরের বাজারে বর্তমানে যে অব্যবস্থাপনা চলছে সে বিষয়ে আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। ভ্রাম্যমান ও অস্থায়ী দোকানদাররা যাতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে পথাচারী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি না করেন এবং তাদের কারণে যাতে স্থায়ী ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেটি নিশ্চিত করতে হবে যেকোন মূল্যে। অস্থায়ী দোকানগুলোকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
আর শুধু ধর্মপাশা বাজারের ক্ষেত্রে নয়, বরং আমরা প্রতিটি বাজারেই একটি উত্তম বাজার ব্যবস্থাপনার চিত্র দেখতে চাই। একেবারে জেলা সদরের নাকের ডগায় মূল শহর থেকে ওয়েজখালী পর্যন্ত যেভাবে পথের পাশে নানা জাতের বহু দোকানের পসরা সাজিয়ে বসানো হয়েছে তা এক কথায় নৈরাজ্যের লক্ষণ। তাই প্রতিটি বাজারকেই নিয়মিত মনিটরিং ও সুব্যবস্থাপনার আওতায় আনার জন্য আমরা প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানাই।