ধানের দাম কম চালের দাম বেশি

বিশেষ প্রতিনিধি
খুচরা ধান-চালের বাজারে বিশেষ এক গুমরের সৃষ্টি হয়েছে। খুচরা ধান বিক্রেতা ও চাল ক্রেতারা প্রতিদিনই লোকসানের শিকার হচ্ছেন। গ্রামের কৃষকরা ধান বিক্রি করছেন কম মূল্যে। অপরদিকে হাটবাজার থেকে সাধারণ মানুষ চাল ক্রয় করছেন ধানের দামের তুলনায় বেশী টাকা দরে।
চাল ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা মিল মালিকদের কাছ থেকে বস্তা হিসাবে চাল ক্রয় করেন। এক বস্তা চাল মিল থেকে দোকান পর্যন্ত আনতে বিভিন্ন খরচ বাবদ প্রায় ৭০-৮০ টাকা ব্যয় হয়। সামান্য কিছু পেয়েই তারা বিক্রি করেন। ধানের দামের চেয়ে চালের দাম বেশী রাখা হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার সকল হাওরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে সাধারণ কৃষকরা চিকন ধান বি-২৮ ও বি-২৯ ধান প্রতিমণ বিক্রি করছেন ৫০০ টাকা করে। বিভিন্ন জাতের মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মন ৪০০ টাকা থেকে সাড়ে ৪৫০ টাকা করে। ধানের দাম কম থাকলে এসব ধানের চালই বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
অবশ্য এবার সরকারিভাবে খাদ্য দোগামগুলিতে প্রতিকেজি ধান ২৩ টাকা দরে ৯২০ টাকা মণ হিসাবে ক্রয় করা হচ্ছে। তবে সরকারি গোদামে প্রান্তিক কৃষকরা কোন সময়েই ধান বিক্রয় করতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাজারে আতপ চাল বি-২৮ (নতুন) প্রতি কেজি ২৫ টাকা, পুরাতন ২৬ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।  আতপ চাল বি-২৯ প্রতি কেজি (নতুন) ২৩ টাকা, পুরাতন ২৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বি-২৮ জাতের সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৩০ টাকা থেকে ৩২ টাকা, আতপ পাইজং প্রতি কেজি ৩২ টাকা থেকে ৩৩ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি কালিজিরা ৮০-৯০ টাকা, চিনিগুড়া প্রতি কেজি (সুগন্ধি) ১১০-১২০ টাকা, কাটারী ভোগ প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা, বাসমতি প্রতি কেজি ৭০ টাকা, মিনিকেট প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকা, পারিজা প্রতি কেজি ২৮-৩০ টাকা, সিদ্ধ চাল কালীজিরা প্রতি কেজি ৪২ টাকা থেকে ৪৮ টাকা, নাজিরশাইল ৪২ টাকা থেকে ৫২ টাকা, বাসমতি প্রতি কেজি ৫২-৫৫ টাকা পর্যন্ত খুচরাভাবে বিক্রি হচ্ছে।
জানা যায়, দুই মণ ধান মিলে ভাঙানো হলে ৫৪ কেজি বা এর চেয়ে সামান্য কিছু কম চাল পাওয়া যায়। এই হিসাব অনুযায়ী দুই মন ২৮ বা ২৯ ধানের দাম ১০০০ টাকা। প্রতিমণ ধান থেকে ২৭ কেজি করে (দুই মণে ৫৪ কেজি) চাল ১০০০ টাকায় পাওয়ার কথা। পরিবহনসহ সবখরচ মিলিয়ে হিসাব অনুযায়ী প্রতি কেজি চালের দাম হওয়ার কথা ১৮.৫১ টাক থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা। ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি বি-২৮ বা বি-২৯ ধান গ্রাম থেকে সাড়ে ১২ টাকায় ক্রয় করছেন। কিন্তু চাল বিক্রির সময় প্রতি কেজি চাল ২০ থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে।
আবার কোন কোন ক্ষেত্রে (পুরাতন) ধানের চাল ৫০ কেজির বস্তা প্রতি কেজি চাল ৪০ টাকা থেকে ৪২ টাকা করে ১৬০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে এই চাল পুরাতন ধানের এবং সুস্বাদু বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এ ব্যাপারে শহরের জেল রোডের চাল ব্যবসায়ী তালিমুর রহমান জানান, চালের ব্যবসা করে এখন এত বেশী লাভ নেই। সাধারণ মানুষ না জেনে শুনেই চালের দাম বেশী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,‘ আমরা চালের দাম রাখি নি। ৫০০ টাকার একমন ধানে ২০ কেজি চালের বেশী হয় না। এর পর ভাঙানো, বস্তায় ভরা, ট্রাক ভাড়া, লেবার খরচ, দোকানে আনাসহ নানা খরচ বাদে লাভ থাকে না।’
জেলা মার্কেটিং অফিসার আব্দুল খালেক খান বলেন,‘আমার জানামতে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। সুনামগঞ্জের হাট-বাজারে দেশের অন্যান্য এলাকার চাল বিক্রি হয়। তবে কোথাও বেশী দামে বিক্রি হয় কিনা বিষয়টির খোঁজখবর নেয়া হবে।’