ধান-চাল ক্রয় অভিযান সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি প্রচারই

আকরাম উদ্দিন
গত ৫ মে থেকে বোরো মৌসুমের ধান চাল ক্রয় অভিযান শুরু করার সরকারি সিদ্ধান্তের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জেলার কোনও খাদ্য গোদামে ধান চাল ক্রয় করা শুরু তো দূরের কথা খাদ্য বিভাগ এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে প্রচারণার কাজও শুরু করেননি। নিয়ম অনুযায়ী সরকারিভাবে ধান-চাল প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে ক্রয় করার বিষয়টি গ্রামাঞ্চলে মাইকিং, লিফলেটসহ নানা মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করার কথা। কিন্তু এরকম প্রচার কাজ শুরুর কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। কবে থেকে খাদ্য বিভাগ ধান ক্রয় করা শুরু করবে তাও
 নিশ্চিত করে জানা যাচ্ছে না। এরকম অবস্থায় প্রতিবছরের মতো সরকারি খাদ্যশস্য ক্রয় কর্মসূচীর সুফল প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে মধ্যসত্বভোগী ফরিয়াচক্রের স্বার্থেই পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।  তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে প্রচার কাজ শুরু হওয়ার কথা বলা হলেও জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকদের সাথে  যোগাযোগ করে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
জেলায় এবার ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০,৯৭৯ মে. টন। গত বছর ছিল ৪,২৭৬ মে. টন। জেলায় প্রতি বছর ধান উৎপন্ন হয় সাড়ে ৮ লাখ মে. টন। এবার যদিও জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা ও জগন্নাথপুর উপজেলায় অকাল বন্যায় হাওরে ফসলহানী ঘটেছে, তবুও লক্ষ্যমাত্রার ধান ক্রয় করতে সমস্যা হবে না বলে জানান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মোহাম্মদ সফিউল আলম।
এ বছর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২১৭৬ মে.টন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৩১০৫ মে.টন, দোয়ারাবাজারে ১৯৩৬ মে.টন, ছাতকে ১৭৪৯ মে.টন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ২৮৬১ মে.টন, দিরাইয়ে ৪১৪০ মে.টন, শাল্লায় ৩৪০০ মে.টন, ধর্মপাশায় ৪২৬২ মে.টন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৩৫৫৩ মে.টন, তাহিরপুরে ২৩৯৮ মে.টন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১৩৯৯ মে.টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধান ক্রয় অভিযানের আজ ৭দিন। এখন পর্যন্ত কোনো উপজেলার সরকারী খাদ্য গোদামগুলোতে ধান ক্রয় করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। এমনকি কোনো প্রচারণাও নেই বলে জানান তারা। ধর্মপাশা উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনোধন চন্দ্র দাস বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনী কাজে এখন খুব ব্যস্ত। আমরা আগামী ২/১ দিনের মধ্যে কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা নেব।’
ধর্মপাশা উপজেলার রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের সরিষাকান্দা সুখাইড় ইসলামপুর গ্রামের কৃষক মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের মাইকিং কোনো হাট-বাজারে করা হয়নি, আমরা শুনিনি।’
একই এলাকার কৃষক সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘এলাকায় কোনো মাইকিং হলে অবশ্যই আমরা জানতে পারতাম। কোনো মাইকিং হয়নি। ধান ক্রয়ের জন্য সরকারীভাবে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানি না।’
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের কৃষক আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কোনো মাইকিং হয়নি। সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের জন্য কেউ উদ্যোগ নেননি।’ একই মন্তব্য করেন পলাশ ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের লুৎফুর রহমান ও পদ্মনগর গ্রামের অরুন দেবনাথ। অবশ্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগামীকাল সভা করা হবে। এরপর ধানক্রয় শুরু হবে। এখন ধান ক্রয়ের জন্য কোনো প্রচারণা নেই।’
জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরপাড় এলাকার বেতাউকা গ্রামের কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের জন্য কোত্থাও কোনো মাইকিং বা প্রচারণা হয়নি।’ চিলাউড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মিয়া ও কৃষক নুরুল ইসলাম একই কথা বলেন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু নঈম মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলহানী ঘটলেও আমাদের লক্ষ্যমাত্রার ধান ক্রয় করতে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ প্রতি বছর এ জেলায় সাড়ে আট লাখ মে.টন ধান উৎপন্ন হয়।’