‘কৃষাণীদের ধানের কাব্য’

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে বোরো ধান কেটে ঝেড়ে ঝুড়ে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা। সেই ধান রাত জেগে সিদ্ধ করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণীরা। রাত দিন পরিশ্রম করার পরও ক্লান্তি নেই তাদের। নিজেদের ক্ষেতের ধান সিদ্ধ ও শুকানোর কাজ করার আনন্দে ভাসছেন তারা।
সরজমিনে ফেনারবাক ইউনিয়নে রামপুর গ্রামে সামনের খলায় গিয়ে দেখা যায়, ঐ গ্রামের কৃষাণীরা পুরো মাঠে ধান শুকানোর জন্য নিজ নিজ নেট জাল বিছিয়ে রেখেছেন। বাড়ি থেকে সিদ্ধ করা ধান বস্তায় অথবা টলিতে করে খলায় নিয়ে নেট জালের উপর ঢালছেন তারা। আর কৃষাণীরা সেই ধান পা দিয়ে নেট জালে আলগা করে দিচ্ছেন। খরা রোদে বার বার ধানে পা দিয়ে নেড়ে দিচ্ছেন কৃষাণীরা। যত বেশী পা দিয়ে নেড়ে দিবেন ততই তাড়াতাড়ি ধান শুকাবে। কৃষাণীদের কাজের গতি দেখে মনে হয় কোন ক্লান্তি নেই তাদের। কখন জানি আকাশ মেঘলা হয়ে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। আগামী বোরো ফসল উঠার আগ পর্যন্ত ঘরের খাবার চাউল করে নিতে হবে তাদের।
কৃষাণী কুলসুম বেগম ও রাজিয়া খাতুন বলেন, বোরো কাটা ঝাড়াঝোড়া হয়ে গেছে। খাওয়ার ধান চাউল করে রেখে বাকি ধান ঘরে জাবারে রেখে দিয়েছি। কিছু ধান বিক্রি করেছি খরচের জন্য। আট মাস খাবারের জন্য চাউল তৈরী করে ঘরে ড্রামে রেখে দিতে হবে। তাই সন্ধ্যা রাতে ধান সিদ্ধ করছি। সিদ্ধ করা ধান খলায় ও নেট জালে শুকিয়ে চাউল করে রাখবো।
একই এলাকার শামছুন্নাহার নামে আরেক কৃষাণী বলেন, এবার আমরা ১৬বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। এবছর আল্লাহর রহমতে ভালো ফলন হয়েছে। জমির ধান কাটার পর গুছানো গাছানো শেষ করেছি। এখন কষ্ট করে ধান সিদ্ধ করছি খাওয়ার চাউল তৈরীর জন্য। এই ধান সকালে রৌদ্রে শুকিয়ে চাউল করে আগামী ফসল না উঠার আগ পর্যন্ত খাবারের চাউল করে ঘরে রাখবো। আকাশের অবস্থা এখন ভালো আছে। একদিনে সব ধান শুকিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। শুকানোর পর মিলে ধান ভাঙ্গাবো। আগামী বোরো ফসল উঠার আগ পর্যন্ত চাউলের আর কোন চিন্তা থাকবেনা।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, বোরো ধানের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। শুনেছি সরকার দাম বাড়াইছে। বাড়ীর খাওয়ার জন্য ধান সিদ্ধ করে শুকানো হচ্ছে। আগামী বোরো ফসল উঠার আগ পর্যন্ত এই চাউলেই সংসার চলবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, এবার জামালগঞ্জ উপজেলায় বোরো ফসল ভালো হয়েছে। ধান কাটার পর অনেকেই ঝেড়েঝোড়ে গুলায় তুলছেন। আবার কেউ খাবারের জন্য ধান সিদ্ধ করে শুকাচ্ছেন। আগামী বছরের ফসল উঠার আগ পর্যন্ত তারা তাদের খাবারের জন্য চাউল তৈরী করছেন। আশানুরূপ ফলন পেয়ে খুশি কৃষকেরা। আর তিন চারদিন আবহাওয়া ভালো থাকলে হাওরের সব ফসল কেটে ফেলতে পারবেন কৃষকেরা।