নতুন করে আক্রান্ত আরও ৩৫জন, সুস্থও হয়েছেন ৩৫ জন

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলায় আরও ৩৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় এই ৩৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৫ জন, দিরাই উপজেলায় ৫ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২ জন, ছাতক উপজেলায় ৫ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ২ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ২ জন এবং জামালগঞ্জ উপজেলায় ২ জন ।
এ নিয়ে করোনা সংক্রমণের ৮৪ তম দিন রবিবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০৯৭ জন। গত ১২ এপ্রিল দোয়ারাবাজার উপজেলায় একজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। এরমধ্যে গত জুন মাসেই জেলায় ৭৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। রবিবার আরোগ্য লাভ করেছেন আরও ৩৫ জন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ১২ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ১ জন, দিরাই উপজেলার ৩ জন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ৪ জন, তাহিরপুর উপজেলার ৪ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৭ জন এবং জগন্নাথপুর উপজেলার ৪ জন। করোনা সংক্রমণ থেকে এ পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৬১০ জন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন। এরমধ্যে ছাতক উপজেলার ৩ জন, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এবং দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১ জন করে মারা গেছেন। এদিকে গত শনিবার সুনামগঞ্জ থেকে নমুনা না পাঠানোয় সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা হয়নি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বর্তমানে করোনা সংক্রমণের পিকটাইম চলছে। এ জন্য সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে এই সময়ে। জুলাই মাসেও এটি অব্যাহত থাকবে। আগস্টে গিয়ে এটা কমে আসবে। তবে এ ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায় আগস্টেও করোনা নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
জুলাইয়েও উচ্চ সংক্রমণ থাকবে :চলমান পরিস্থিতিতে করোনায় দেশে আরও কত মানুষ আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করতে পারেন, তা নিয়ে জুনের মাঝামাঝি একটি পর্যালোচনা করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জনস্বাস্থ্যবিদদের নিয়ে গঠিত তাদের আট সদস্যের কমিটির ওই পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংক্রমণের চলমান ঊর্ধ্বমুখী ধারা জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই সময়ে আরও এক লাখ ২৫ হাজার মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। আগস্ট মাসে সংক্রমণের মাত্রা নিম্নমুখী হতে শুরু করবে। বর্তমানে মৃত্যুহার রয়েছে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা বেড়ে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৯০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।