নতুন বছরের অগ্রাধিকার হোক রেলপথ

আশ্বাসে ও বিশ্বাসে পূর্ণ ২০১৬ খ্রিস্টিয় সন শেষ হয়ে আজ থেকে শুরু হলো নতুন বছর। ২০১৭ খ্রিস্টিয় সন। নতুন মানেই পিছনের অন্ধকার আর হতাশা কাটিয়ে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে আশার তরী ভাসানো। প্রতিটি সূর্যোদয়ে যেমন নতুন শপথ নতুন উদ্দীপনা নিয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হয় মানুষ তেমনি একটি নতুন বছরও মানুষ শুরু করে নতুন কিছু আশা নিয়ে। সুনামগঞ্জের প্রেক্ষিতে জেলাবাসীর আশার কোন শেষ নেই। বহু জায়গায় পিছিয়ে থাকা এই জেলায় উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়নের জনআকাক্সক্ষা ব্যাপক। ইতোমধ্যে এসব দাবি-দাওয়া জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়েছে। বহু দাবি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন দায়িত্বশীলরা। বহু উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে যে দাবিটি জেলাবাসীর প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে সেটি হলো জেলা শহরে রেললাইন সম্প্রসারণ। এই দাবির বিষয়টি আরও গতি পেয়েছে কয়েকদিন আগে রেলপথ মন্ত্রণালয় জেলা সদর পর্যন্ত ছাতক থেকে রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা সরকারের নিকট দাখিল করেছেন। অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে সরকারি পর্যায়ে জেলাবাসীর এই দাবি নীতিগতভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে গেছে। দেশের প্রাচীনতম গণপরিবহন মাধ্যম হিসেবে রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হলেও জেলাবাসীর দুর্ভাগ্য হলো জেলা সদরে এর সুযোগ না পাওয়া। জেলা সদর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে ছাতক পর্যন্ত রেললাইন থাকলেও জেলা সদর পর্যন্ত লাইন সম্প্রসারণের কাজটি হয়ে উঠছে না এক শতাব্দী যাবৎ। এখন রেললাইন পাওয়ার জনদাবিটি শক্তিশালী হয়েছে। দায়িত্বশীলরা এই দাবির সমর্থনে একাট্টা হয়েছেন। পিএসসির চেয়ারম্যান ও জেলার সংসদ সদস্যরা এই দাবির সমর্থনে সরকারের বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তাই নতুন বছরে আমরা সুনামগঞ্জ জেলা সদরে রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক একটি ঘোষণা শুনতে আগ্রহী।  
সড়কপথের আগ্রাসী পরিবহন ব্যবসায়ীদের কবল থেকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতকে সুগম করতে রেলপথের বাইরে দ্বিতীয় কোন বিকল্প নেই। সারা বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের পরিবহন বলতে রেলপথকেই বুঝানো হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো সড়ক ব্যবসায়ীদের আধিপত্যের কারণে সরকারি নীতি নির্ধারকরা দেশব্যাপী রেলনেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়ে অধিক এগুতে পারছেন না। কিন্তু একটি মুনাফামুখী গোষ্ঠীর এমন অনৈতিক আধিপত্যের কাছে জনগণের প্রাণের চাহিদা আটকে থাকবে এমনটি কখনও কারও কাম্য নয়। সড়কপথের চাইতে স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, যাত্রীবহন সক্ষমতা, দুর্ঘটনা ঝুঁকি, ভ্রমণ খরচ ইত্যাদি সবকিছুই রেলপথে অনেক কম। মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। সুতরাং এখন রেললাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারকে।
ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ এবং মোহনগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা হয়ে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত দ্বিমুখী রেললাইন সম্প্রসারণ করা হলে সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় রেল-নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়বে। এতে জেলার উৎপাদিক কৃষিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদাদি সারা দেশে পরিবহনের সুবিধা বাড়বে, জনগণের যাতায়াত সুবিধাও সুস্থিতিশীল হবে। আমরা তাই জেলার সকল সংসদ সদস্যবৃন্দসহ সরকারের উচ্চতর পর্যায়ে দায়িত্বপালনকারী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই ২০১৭ সনের মধ্যে সুনামগঞ্জে রেললাইন সম্প্রসারণের কাগজপত্রের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নিন যাতে ২০১৮ সন থেকে কাজটি শুরু হতে পারে। তাহলে আপনারা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে সবিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে থাকবেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। একটা সময়ে আপনারা থাকবেন না। কিন্তু আপনাদের অবদানটুকু স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে জেলার ইতিহাসে। নতুন বছরের শুরুতে আমরা আপনাদের এই জনদাবির কথাটি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যই।