নতুন শঙ্কায় কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি
হাওরে বোরো বীজ বপনের সময় হয়ে গেলেও জেলার বৃহৎ ৪২ টি হাওরের কোনটিতেই এখনো পানি নামেনি। নদী ভরাট, আবার কোথাও স্লইস গেট বা সংযোগ খাল ভরাট, কোথাও বা স্লুইসগেটের মুখে বাঁধ দিয়ে রাখায় জেলাব্যাপি কৃষকরা নতুন আরেক সংকটে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামালগঞ্জের গজারিয়া স্লুইসগেটের খালের মুখে স্থায়ী বাঁধ থাকায় পাগনার হাওরের বড় একটি অংশের পানি নামছে না। একই হাওরের ডালিয়া স্লুইসগেট দিয়ে বিগত বোরো মৌসুমে পানি ঢুকা শুরু হওয়ায় কৃষকরা স্লুইসগেটের মুখে বাঁধ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকা বন্ধ করেন, এই বাঁধ এখনো কাটা হয়নি। এই হাওরের শান্তিপুর বাঁধের কারণেও হাওরে পানি আটকা থাকে, এখনো এটি কাটা হয়নি। এই বাঁধটিও কাটা জরুরি। না হয় পাগনার হাওরের পানি নামবে না।
কেবল পাগনার হাওরেই নয়। অনেক হাওরেই এমন সংকট রয়েছে। একদিকে নদীর পানি   
ধীরগতিতে নামায় হাওরের পানিও ধীর গতিতে কমছে। বোরো আবাদ পিছিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে রেগুলেটর (পানি নিস্কাশনের পথ) ভরাট, স্লুইসগেটের মুখ ভরাট, সংযোগ খাল ভরাট, পাইপ স্লুইস ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি নামতে বিলম্ব হচ্ছে।
এই অবস্থায় চিন্তিত হয়ে ওঠেছেন কৃষকরা। কৃষকরা বলেছেন, চাষাবাদ শুরু করতে বিলম্ব হলে ফসল ঘরে তোলা নিয়েও শঙ্কা দেখা দেয়। অকাল বন্যা, পাহাড়ীঢল এবং বন্যায় ক্ষতি হবার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিশ্বম্ভরপুরের করচার হাওরপাড়ের রাধানগরের কৃষক আব্দুল হেকিম বলেন, ‘অন্যান্য বছর এই সময়ে বোরোর বীজ বপন শুরু করে দেই, এবার হাওরের পানি না নামায় এখনো বীজ বপন করা যায়নি। এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় আমরা।’
জেলার ১১ উপজেলার একাধিক কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার অন্তত ৪০ টি রেগুলেটর পলিতে ভরাট হওয়ায় পানি নামছে না। সংযোগ খাল ভরাট হয়েছে কমপক্ষে ৫০ টি স্লুইসগেটের। গত কয়েক বছর ধরেই এই অবস্থা। পাউবো কর্তৃপক্ষকে এর আগেও কৃষকদের পক্ষ থেকে এসব সমস্যার কথা জানালেও তাঁরা আমলে নেয়নি।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র পওর বিভাগ-১’এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘গত ২৯ অক্টোবর হাওরের পানি দ্রুত নামার ব্যবস্থা করে দেবার জন্য রেগুলেটরের পলি অপসারণ, নষ্ট হয়ে যাওয়া ফল বোর্ড নতুন করে তৈরি, একটি পাইপ স্লুইসের পলি অপসারণ এবং ৫০ টি সংযোগ খাল খননের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি আমরা। জেলা প্রশাসকও সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট এই বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এখনো এই চিঠির ফলোআপ হয়নি। আমরা অপেক্ষ করছি উর্ধ্বতর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের।’