নদীর পাড়ে ময়লার ভাগাড়, দুর্ভোগে মানুষ

পুলক রাজ
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের সাহেব বাড়ি এলাকায় সুরমা নদীর পাড় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এ কারণে এলাকাবাসীকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। নদীর তীরে মানুষজন ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। বাসাবাড়ির ময়লা, ডাবের খোসা, পলিথিন, পচা-বাসী খাবারের উচ্ছিষ্ট সবই ফেলা হচ্ছে ওই স্থানে। এতে মশা-মাছির জন্ম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসীকে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হয় ময়লা-আবর্জনার স্তূপের পাশ দিয়ে। দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচার জন্য নাকেমুখে কাপড় চেপে ধরতে হয়। ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর আরপিননগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাহেব বাড়িঘাটের সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার কোনো ডাস্টবিন নেই। ওই এলাকার মানুষজন ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ময়লা আবর্জনা ফেলে নদীর পাড়ে। এতে আরপিননগর ও তেঘরিয়া এলাকার মানুষ সাহেববাড়ি ঘাটে এসে গোসল করতে অসুবিধার সম্মুখিন হন। ময়লা আবর্জনায় দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে গোসল সারতে হয় তাদের। আবার ময়লা আবর্জনা নদীর পানিতে মিশে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি ও পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কাদের মিয়া বলেন, আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনা থেকে এলাকায় জীবাণু ছড়াচ্ছে। মশা-মাছি পোকামাকড় জন্ম নিচ্ছে।
নূরে আলম বলেন, প্রতিদিন গোসল করার জন্য ঘাটে আসি। ঘাটের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ রয়েছে। উৎকট দুর্গন্ধ থাকার কারণে কোন রকম কষ্ট করে গোসল শেষ করে আসি। এরকম চলতে থাকলে এলাকার মানুষের চরম ক্ষতি হবে। দিন দিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের বাড়ছে। এরমধ্যে যদি এরকম অবস্থায় থাকে তাহলে মানুষ আরো নানা রোগে আক্রান্ত হবে।
ফরিদ হোসেন বলেন, এতো সুন্দর ফুটপাতের রাস্তা করা হয়েছে। দেখার মতো একটা পরিবেশ হয়েছে সাহেববাড়ি ঘাট। কিন্তু এই ময়লার ভাগারের জন্য পরিবেশটাই নষ্ট হয়ে গেছে। বিকেলের সময়টা কাটাতে প্রতিদিন এই ঘাটে আসি। রাস্তার পাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ আর দুর্গন্ধে মনটাই খারাপ হয়ে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষের একটু নজর দিলেই এলাকা আরো দৃষ্টিনন্দন হয়ে যাবে।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবাবিল নূর বললেন, সুরমা নদী ঘেঁষা উত্তর আরপিননগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাহেব বাড়িঘাটের সড়ক অনেক বড় করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন ফুটপাতের সড়কও করা হয়েছে। হাছনরাজার বাড়ী দেখতে অনেক মানুষ আসে। সাহেববাড়ি ঘাটের মনোরম পরিবেশ তৈরী হয়েছে। বিকেল হলে আমিও মাঝে মধ্যে গিয়ে বসি। কিছুদিন পরপর পৌরসভার ট্রাক দিয়ে ময়লা তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এক্ষেত্রে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। ময়লা আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।