নদী খনন ও বাঁধ তদারকিতে নাগরিক উদ্যোগ সম্প্রসারিত হোক

সুনামগঞ্জে চলমান নদী খনন কাজের অংশবিশেষ পরিদর্শন করে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। রক্তি-জাদুকাটা নদীর খনন কাজ পরিদর্শন শেষে প্রদত্ত তাঁদের অভিমত গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিদর্শনে সহায়তা করেছেন স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। আমরা লক্ষ্য করছি, গত কয়েক মাস ধরে হাওরের নানা ধরনের সভায় হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন নেতৃবৃন্দকে প্রশাসন যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। গত মৌসুমে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের কারণে এই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জেলার কৃষক-নাগরিক সমাজের চোখে বিশেষ শ্রদ্ধার আসন পেয়েছেন, তাঁদেরকে প্রশাসনের গুরুত্বারোপ ওই শ্রদ্ধার জায়গার প্রতিই সম্মান দেখানো । এর মধ্য দিয়ে সরকারি উন্নয়ন কাজে নাগরিক সমাজের মতামত নেয়া এবং উন্নয়ন কাজ তদারকীতে জনঅংশগ্রহণের যে সংস্কৃতি, সেটি চর্চার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই অংশগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কাজের যথাযথ মান বজায় রাখা ও এসব বিষয়ে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা দূরিকরণেও যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে নাগরিক অংশগ্রহণের এই দৃষ্টান্ত একই সাথে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ারও একটি সুযোগ গড়ে উঠেছে এর মধ্য দিয়ে। আমরা তাই হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনসহ প্রশাসনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। শুধু এই আন্দোলন সংগঠনই নয়, এবার হাওরের কাজে আরও বেশ কিছু সংগঠনের নজরদারির খবর সংবাদ মাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যাচ্ছে। আর কিছু দিন পরই হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। পুরো বাঁধ নির্মাণ/সংস্কার প্রক্রিয়াটিই যদি এরকম সরকারি-বেসরকারি তদারকির মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় তাহলে এর ইতিবাচক ফলাফল মিলবে নিশ্চিতভাবেই। এজন্য নাগরিক সংগঠনগুলোর নিজস্ব কিছু কর্মপরিকল্পনাও সামনে প্রণীত হবে বলে আমরা আশাবাদী। শুধু সরকারি উদ্যোগের মুখাপেক্ষী না থেকে তারা যদি কর্ম এলাকায় নিজেদের তদারকি সম্প্রসারণ করতে কিছু পরিকল্পনা তৈরি ও সে মোতাবেক কাজ করেন তাহলে প্রক্রিয়াটি আরও শক্তিশালী হবে। তারা নিজেদের সামর্থ দিয়ে একটি শক্তিশালী মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারেন।  
প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে আমরা সকলেই কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষি অর্থনীতি আমাদের জাতীয় অর্থনীতির মেরুদ-। এই মেরুদ-কে যেকোন ক্ষয় হতে রক্ষা করা তাই সকলের পবিত্র দায়িত্ব। এই লক্ষে কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেন কাজ করেন, এমন সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবেÑ হাওরের ফসল রক্ষায় পরিচালিত সকল কাজে আপনাদের ইতিবাচক তৎপরতার সম্প্রসারণ ঘটুক। সরকারি তদারকি প্রক্রিয়ার সমান্তরালে পরিচালিত এই বেসরকারি তদারকি পুরো তদারকী ব্যবস্থাকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় দাঁড় করিয়ে রাখবে। তবে সকলকে মনে রাখতে হবে, এই কাজ যাতে কোন অবস্থাতেই ক্ষমতা প্রদর্শনের বিষয়বস্তু হয়ে না উঠে। এটি হবে সম্পূর্ণতই সহায়ক অবস্থান।
যেখানে যত নদী খনন কাজ হচ্ছে, যেখানে বাঁধ নির্মাণ/সংস্কার হবে, সর্বত্র এবার একটি প্রাণচাঞ্চল্য প্রতিষ্ঠিত হোক আর এই প্রাণচাঞ্চল্যে আমাদের নাগরিক সংগঠনগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করুক, এই আমাদের কামনা।