স্টাফ রিপোর্টার
নদীর পানির উচ্চতা কমতে শুরু হতেই, আরেক বিপদ শুরু হয়েছে নদীর পাড়ের নদীর পাড়ের হাটবাজার ও জনবসতিতে। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে গ্রাম, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সুরমা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জে এবং কুশিয়ারার ভাঙনে জগন্নাথপুর এবং শাল্লা উপজেলার কয়েকটি এলাকা বিলীন হচ্ছে । নদীভাঙনে আতংক বাড়ছে এসব জনপদে। ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারিয়ে পথে বসছে মানুষ। ভাঙন এলাকাগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব ইব্রাহীমপুরে ভাঙন প্রতিরোধে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সামনের ২টি দোকান ঘর গত কয়েকদিনের ভাঙনে নদীতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও নদী ভাঙনে দোয়াবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিমবাজার সড়ক ভেঙে গেছে। বন্ধ রয়েছে যানচলাচল। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে মাজেরগাঁও, মুরাদপুর, মংলারগাঁও, মাছিমপুর গ্রাম। এসব গ্রাম প্রতিনিয়তই ভাঙ্গছে। আতংকের মধ্যে রয়েছে গ্রামবাসী।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব ইব্রাহিমপুর, মইনপুর, জগন্নাথপুর, খাইমতর, ধারারগাঁও, বাবনগাঁও, আমবাড়িবাজার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। এরমধ্যে শুধু পূর্ব ইব্রাহিমপুরে নদীভাঙ্গন প্রতিরোধে সংস্কার কাজ চলছে।

জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের নুরপুর, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের রামপুর এবং শরীফপুর গ্রামে ভাঙনের তীব্রতা বেশী।
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ উপজেলার টেংরাখালি, বালিশ্রী গ্রাম ভাঙনের মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও, আশারকান্দি এবং রানীগঞ্জ ইউনিয়নের একাধিক গ্রামীণ সড়ক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদী ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে।
শাল্লা উপজেলার কুশিয়ারা নদীর ডান তীরের ফয়জুল্ল্পাুর, বিষ্ণুপুর, প্রতাপপুর, ভেড়াডহর এবং জয়পুর এলাকায় ভাঙন আবারও শুরু হয়েছে। অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষজন। ফয়জুল্লাপুর বাজারে নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও হবিগঞ্জ-বানিয়াচঙের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নিয়ে এসেছিলেন। দ্রুত কাজ শুরু’র কথাও দেয়া হয়েছিল, কিন্তু নদী ভাঙন প্রতিরোধে কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয় নি।


