নদী যখন সড়ক

শহীদ নূর আহমেদ
উজান থেকে নেমে আসা বালি আর পলিতে ভরাট হয়ে অস্তিত্ব হারিয়েছে ডাওকা নদী। মরা নদীর উপর দিয়ে শীত মৌসুমে চলাচল করছে ট্রাক্টর, সিএনজি, লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহন। নদীতে পানি না থাকায় সেচের অভাবে চাষের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে নদী তীরবর্তী শতশত একর জমি। নদীর বুকেই গড়ে উঠেছে স্থায়ী বসতি। গতিপথ পাল্টে হাওরমুখী হওয়ায় নদীর পার্শবর্তী হাওরগুলোও পলি পড়ে ভরাট হচ্ছে । নদী শুকিয়ে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে এলাকায়। দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। নদী খনন ও  সেচের বিকল্প ব্যবস্থা না করলে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশংঙ্খা করছেন স্থানীয়রা। লিখিত আবেদন পেলে যাচাই করে নদী খননের বিষয়টি প্রকল্পে সংযুক্ত করা যাবে বলে মনে করছেন পাউবো কর্র্তৃপক্ষ।
জানা যায়, ছাতক, জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে গেছে এই নদীটি। সুরমা নদীর একটি শাখা থেকে উৎপত্তি হয়ে মঈনপুর, শাপলাগঞ্জ, হায়দরপুর,       শ্রীমতিপুর, কলকলি, সাদিপুর, সিদ্দরপাশা হয়ে কুশিয়ারার সাথে মিলিত হয়েছে নদীটি। হায়দরপুর থেকে শ্রীমতিপুর ও কলকলিয়া পর্যন্ত বালিতে ভরাট হয়ে গেছে। নদীর উপরে অনেক স্থানে গড়ে উঠেছে স্থায়ী বসতি । নদী ছোট হয়ে খালে পরিণত হয়েছে। পাল্টেগেছে নদীর গতিপথ। স্রোতে উজান থেকে নিয়ে আসা বালির স্থর পড়ে ভরাট হয়েছে অটার হাওর নামে একটি হাওরের বোর ফসলি জমি। নদীতে পানি না থাকায় সেচের অভাবে জমি চাষ করতে পারচ্ছেন না কৃষকরা। বর্ষায় নদীর পানিতে স্রোত থাকলেও শীত মৌসুমে পানির বালাই নাই। ৪ দশক আগে ডাওকা নদীদিয়ে বড় বড় লঞ্চ স্টিমার যাওয়ার গল্প শুনা গেলেও এখন হরদমে নদীর বুক দিয়ে যাতায়াত করছে যাত্রীবাহী গাড়িসহ যানবাহন। বর্ষায় কিছু দেশীয় মাছ দেখা গেলেও নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় শীত মৌসুমে মাছ তেমন দেখা যাচ্ছে না। একারণে মৎস্যজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছে ।untitled-1
দাবী  উঠেছে নদীটি খননের। নদী খনন করে এলাকার কৃষি ও মৎস্য সম্পদ রক্ষার।গভীর নলকুপ স্থাপন করে চাষের অনুপযোগি জমিগুলোকে চাষের আওতায় আনা।
শ্রীমতিপুরের  বাসিন্দা মনির উদ্দিন (৮০) বলেন, ‘ডাওকা নদী অনেক গভীর ছিল। নদী দিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে লঞ্চ যেত। অনেক বড় বড় মাছ নদীতে জেলেরা ধরতেন। এখন নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না জমি। নদী খনন না করলে ভবিষ্যতে এলাকার মানুষের জীবন জীবীকা হুমকি মুখে পড়বে।’
হায়দপুরের বাসিন্দা হারিশ আলী বলেন, ‘পানির অভাবে অটার হাওরে জমি চাষ করতে পারছি না আমরা। পতিত রয়েছে শত শত একর জমি। সেচের বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারলে ফসল ফালানো সম্ভব হবে।’
শ্রীমতিপুরের হরিদাস নামে এক মৎস্যজীবী বলেন, ‘আমারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। আগে এই নদীতে প্রচুর মাছ ধরা যেত। কিন্তু শীতে নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ পাওয়া যায় না। খুবই খারাপ দিন যাচ্ছে আমাদের।’
পানি উন্নয়ন র্বোডের ছাতক উপজেলা উপ বিভাগীয় প্রকোশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘ডাওকা নদীটি আমাদের কোন প্রকল্পের আওতায় নেই। তবে এলাকাবাসী যদি নদী খননের ব্যপারে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে লিখিত আবেদন করেন তাহলে যাচাই করে নদী খননের চলমান প্রকল্পে সংযুক্ত করা যাবে কিংবা চাহিদার উপর ভিত্তি করে  নতুন প্রকল্প প্রণয়নের জন্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে’