ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে অবৈধ নিয়োগকে বৈধ করতে ফের কৌশলে নাগরিকত্ব সনদ তৈরি করে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন হৃদি রায় নামে সেই প্রার্থী। এর আগে হৃদি রায় কৌশলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে বোকা বানিয়ে ঠিকানা পরিবর্তন করে নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ করে তা সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দিয়েছিলেন। আর সেই নাগরিকত্ব সনদ দেখেই তাকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শামীমা আক্তার নামে আরেক নিয়োগ প্রত্যাশী হৃদি রায়ের স্থায়ী ঠিকানাকে অবৈধ দাবি করে তার (হৃদি) নিয়োগ বাতিলের জন্য সুনামগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে অভিযোগ জানালে বিষয়টি সামনে আসে।
গত ১২ আগস্ট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের অধীনে পরিবার কল্যাণ সহকারী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ওই পদে মধ্যনগর ইউনিয়নের ৩/খ ইউনিটের শুধুমাত্র গলহা, বনগাঁও, কলুমা, করুয়াজান ও মাছুয়াকান্দা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়। গত ২৮ অক্টোবর নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৫ নভেম্বর ভাইবা/মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়া হয়। এতে হৃদি রায় চূড়ান্তভাবে নিয়োগ লাভ করেন এবং গত ৩০ নভেম্বর চাকরিতে যোগদান করে গলহা গ্রামে কর্মস্থলে গেলে বিষয়টি শামীমা আক্তারসহ একাধিক অকৃতকার্য প্রার্থীর নজরে আসে। পরে তাঁরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন হৃদি রায় মধ্যনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাউড়ি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তাপস রায়ের মেয়ে। গত ৮ ডিসেম্বর বিকেলে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিফাত তারেক সিদ্দিকী হৃদি রায়কে স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত প্রমাণাদির জবাব দেওয়ার জন্য চিঠি দেন। তারই সূত্র ধরে গত সোমবার সন্ধ্যায় হৃদি রায় মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক ২৪ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত একটি নাগরিকত্ব সনদ জমা দিয়েছেন।
কিন্তু মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু বলেন, ‘হৃদি রায় প্রথমে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে গ্রামের নাম ইটাউড়ি পরিবর্তন করে গলহা লিখে কৌশলে নাগরিকত্ব সনদ নেয়। পরবর্তীতে তাকে (হৃদি) আর কোনো নাগরিকত্ব সনদ দেওয়া হয়নি। গত ২৪ ডিসেম্বর আমি মধ্যনগর ছিলাম না। যদি ওইদিনের (২৪ ডিসেম্বর) স্বাক্ষরিত নতুন নাগরিকত্ব সনদ জমা দিয়ে থাকে তাহলে সে (হৃদি) জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।’
অভিযোগকারী প্রার্থী শামীমা আক্তারের স্বামী মহসিন ইউ আহমেদ বলেন, ‘হৃদি রায় নিজেজে গলহা গ্রামের বাসিন্দা দেখিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় তার বাবাকে নিয়ে নতুন করে ২৪ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত নাগরিকত্ব সনদ জমা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি তিনি হৃদিকে নতুন নাগরিকত্ব সনদ দেননি।’
এ ব্যাপারে হৃদি রায়ের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এমনকি ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ধর্মপাশা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিফাত তারেক সিদ্দিকী বলেন, ‘হৃদি রায় গলহা গ্রামের বাসিন্দা দেখিয়ে নতুন নাগরিকত্ব সনদ আমার কাছে জমা দিয়েছেন। যা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তারা বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন।’
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিকাশ কুমার দাস বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার মিজানুর রহমান রনিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি (রনি) চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


