এস ডি সুব্রত
কোন শান্তিপ্রিয় মানুষেরই যুদ্ধ কাম্য নয়। তবু যুগে যুগে যুদ্ধ চলে আসছে। প্রাচীন কালেও যুদ্ধ ছিল। তখন অস্ত্র ছিল তীর, ধনুক, বর্শা ও তলোয়ার। সভ্যতার উৎকর্ষতার সাথে সাথে যুদ্ধের ধরন পাল্টেছে। নিজে বাঁচার জন্য, অন্যকে ঘায়েল করার জন্য কিংবা আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে। তেমনি একটি ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার বৃহৎ পরিসরের কারণ হিসেবে এডলফ হিটলার ও নাৎসি পার্টির জার্মানির রাজনৈতিক অধিগ্রহন এবং ক্ষুদ্র পরিসরের কারণগুলোর মধ্যে একটি ছিল জাপান সাম্রাজ্যের ১৯৩০ এর দশকে চীন প্রজাতন্ত্রে আক্রমন। মিত্রশক্তি জার্মান ও জাপানের সাম্রাজ্য বাদী আগ্রাসনকে যুদ্ধের কারণ বলে দাবি করে। হিটলার পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সীমানায় ডানজিগ অঞ্চলে যোগাযোগের জন্য পোলিশ করিডর দাবি করলে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড বিরোধীতার হুমকি দেয়। জার্মান এই হুমকি অগ্রাহ্য করে পোল্যান্ড আক্রমন করলে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কোন কোন মতে, ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও জাপান এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকলে আমেরিকা জাপানকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানায়। জাপান এ আহ্বান অগ্রাহ্য করলে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যানের নির্দেশে আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ যুদ্ধে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে বোমার যে ধ্বংসযজ্ঞ তা ভুলে যাবার নয়। নাগাসাকি শহরে বোমা হামলার স্মরণে বিশ্ববাসী আজও ৯ আগস্ট নাগাসাকি দিবস পালন করে। আজ থেকে ৭৬ বছর আগে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৯ আগস্টে নাগাসাকিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক বোমা হামলা করেছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান হিরোশিমা ধ্বংস করে তৃপ্ত হননি। তার নির্দেশে হিরোশিমায় বোমা হামলার ২ দিন পর ৯ আগস্ট বেলা ১২টা ২ মিনিটে বি ২৯ বক্সার বিমানের মাধ্যমে নাগাসাকিতে ফ্যাটম্যন নামের বোমা নিক্ষেপ করে। ফ্যাটম্যনের ধ্বংস ক্ষমতা লিটলবয়ের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। এই শহরের দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার মানুষের মধ্যে সাথে সাথে মারা গেল ৭৪ হাজার মানুষ। একইদিনে মিৎসুবিশি জাহাজ নির্মাণ কারখানা ধ্বংসের জন্য আরেকটি বোমা ফেলা হয়েছিল যে টি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল। ফ্যাটম্যনের ওজন ছিল ৪৬৩০ কেজি, দৈর্ঘ্য ১০.৬ ফুট, পরিধি ছিল ৩৬ ইঞ্চি। তেজস্ক্রিয় পরমানূ প্লুটোনিয়াম ২৩৯। ফ্যাটম্যান বহনকারী বিমানের পাইলট ছিলেন মেজর চার্লস ডব্লু সুইনি। বিস্ফোরণের মাত্রা ছিল ২১ কিলোটন টিএনটি। লক্ষবস্তু ছিল জাপানের নাগাসাকির মিৎসুবিশি স্টীল ও অস্ত্র কারখানা। পরবর্তীতে এখানে একটি শান্তি উদ্যান নির্মিত হয়েছিল। নাগাসাকির বোমা হামলার ভয়াবহতা ও মৃতদের স্মরনে সারা বিশ্বে প্রতি বছর ৯ আগস্ট নাগাসাকি দিবস পালিত হয়। সামরিক প্রভুত্বের মাধ্যমে সারা বিশ্বে আধিপত্য কায়েমের লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়ার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিক ক্ষেত্রে একক আধিপত্য অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্যান্য দেশ পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রতিযোগিতায় নামে। এই প্রতিযোগিতার দৌড়ে রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমার অধিকারী হয়। অঘোষিত ভাবে ইসরাইলও পারমাণবিক বোমার অধিকারী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পারমাণবিক বোমা তৈরির যে প্রতিযোগিতা শুরু হয় তাতে বিশ্বের শান্তিকামী সাধারণ জনতা আতংকিত হয়। শান্তিপ্রিয় মানুষ বিশ্ব কে পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহ ধ্বংস থেকে ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা বিস্তার রোধে এনটিপি ও সিটিবিটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কিন্তু সকল দেশের ঐক্য আর আন্তরিকতার অভাবে সে চুক্তি সফলতা লাভ করতে পারেনি। কারো জন্য নিয়মের কঠোরতা আর কারো জন্য শিথিলতার কারনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। অস্ত্র তৈরির পেছনে হাজার হাজার মিলিয়ন ডলার খরচ না করে বিশ্বব্যাপী বিরাজমান দারিদ্র্য, অশিক্ষা, মরনব্যাধি ও মহামারী নির্মূলে ব্যয় করা হলে সত্যিকারের মানবাধিকার চর্চা হতো এবং বিশ্বে শান্তি বিরাজ করতো।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক, সুনামগঞ্জ
- দক্ষিণ সুনামগঞ্জে পিকআপ ভ্যান, সিএনজিসহ ৫ ডাকাত আটক
- বঙ্গবন্ধুর সময়োচিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বঙ্গমাতার পরামর্শ আন্দোলনে গতির সঞ্চার করেছিল : প্রধানমন্ত্রী


