নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র বাড়িতে ডাকাতি- তত্ত্বাবধায়ক খুন

আবু হানিফ চৌধুরী, দিরাই
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক, সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র দিরাই উপজেলা সদরের বাসভবনে ডাকাতি হয়েছে। ডাকাতরা নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র বাসভবনের তত্ত্বাবধায়ককে খুন করেছে। রোববার বিকাল ৩ টায় দিরাই উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার কাঠইড় পার্শ্ববর্তী শান্তিপুর এলাকায় তার লাশ পাওয়া গেছে। ডাকাতরা নাছির উদ্দিন চৌধুরী বাড়ির পেছনের কলাপসেবল গেটের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেছে। নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র রাইফেল, রিভলবার, ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, কিছু নগদ টাকা নিয়েছে ডাকাতরা। নিহত তত্ত্বাবধায়কের নাম লিলু মিয়া (১৮)। সে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ভরাট গ্রামের ছিদ্দিক মিয়ার ছেলে। প্রায় ১২ বছর ধরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র বাড়িতে রয়েছে লিলু মিয়া।
দিরাই উপজেলা পরিষদের পাশে থাকা নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক লিলু মিয়াকে রোববার সকালে এসে আশপাশের লোকজন ডাকাডাকি করলে সে কোন সাড়া দেয়নি। পরে প্রতিবেশিরা বাড়িতে ঢুকে দেখতে পান পেছনের কলাপসেবল গেট        খোলা, ঘরের ভেতরে অনেক কিছুই তছনছ দেখেন তারা। পরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তার ভাই মাসুদ চৌধুরীকে ফোন দেন প্রতিবেশীরা। দুপুরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তার ভাই মাসুদ চৌধুরী বাড়িতে পৌঁছে দেখতে পান ঘরের ওয়ারড্রব ও আলমিরা ভাঙা। শেষে ওয়ারড্রব খুলে দেখতে পান নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র লাইসেন্স করা রিভলবার ও রাইফেল নেই। প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, কয়েকটি মোবাইল সেট এবং ড্রয়ারে থাকা ২০-২৫ হাজার টাকাও নেই।
বিকাল ৩ টায় খবর পাওয়া যায় নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র তত্ত্বাবধায়ক লিলু মিয়ার লাশ সদর উপজেলার কাঠইড়’এর শান্তিপুরে পাওয়া গেছে। পুলিশ ও নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র আত্মীয়-স্বজনরা লিলু মিয়ার লাশ সনাক্ত করেছেন।
নাছির উদ্দিন চৌধুরী জানান, তিনি সুনামগঞ্জে ছিলেন, তাঁর ভাইসহ পরিবারের অন্যরা সিলেটে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। ডাকাতির খবর পেয়ে বাড়িতে এসে তারা দেখেছেন রাইফেল, রিভলভার, স্বর্ণালংকার ও কিছু টাকা ডাকাতরা নিয়েছে। তার বিশ্বস্ত তত্ত্বাবধায়ককেও খুন করেছে ডাকাতরা।
ঘটনাস্থলে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল্লা বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী’র বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের লাশ পাওয়া গেছে। কী কী ডাকাতি হয়েছে এই তালিকা পুলিশ করছে ( বিকাল ৫ টা) ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে পুলিশ’।
এদিকে, এ রিপোর্ট লেখার সময় (বিকাল ৫ টা ১০ মিনিটে) সিলেট থেকে আসা সিআইডি পুলিশের অপরাধ সনাক্তকারী একটি বিশেষজ্ঞ দলকে বাড়িতে এসে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
এদিকে খবর পেয়ে দুপুরে এডিশনাল ডিআইজি নজরুল ইসলাম, রাত ৮ টায় সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ও নবনির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ডিআইজি নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাবে না। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকে খুঁজে বের করা হবে।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির প্রথম সদস্য সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।