বিশেষ প্রতিনিধি
সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা কায়দায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা দামের গাড়ি আসছে। এই ব্যবসায় কিছু প্রবাসীরাও জড়িত হয়ে পড়েছেন। শনিবার সুনামগঞ্জ শহর থেকে ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি গাড়ি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খানের নির্দেশে আটক করা হয়েছে। গাড়ির মালিক সুনামগঞ্জ শহরের হাজীপাড়ার বাসিন্দা ঠিকাদার বেলাল আহমদ বলেছেন, ‘গাড়িটি শুল্ক দিয়ে না আনার বিষয়টি আমার জানা ছিল না, আমি গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকে গাড়ি নেবার সময়ই বলেছি, আমি গাড়িটি বৈধ জেনেই কিনেছি, শুল্ক না দিয়ে থাকলে, যারা এনেছে এবং বিক্রি করেছে তারাই দায়ী, আমি একজন ক্রেতা’।
রোববার সন্ধ্যায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক’এর অফিস থেকে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সুনামগঞ্জ শহরের হাজীপাড়া এলাকা থেকে সিলেটের বিআরটিএ হতে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন নেওয়া সিলেট ঘ ১১-০৩০১ কারটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এই গাড়িটি আনা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রোববার সিলেট বিআরটিএ’র অফিসের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, ২০১৪ ইংরেজির ২৯ মে বিল অব এন্ট্রি সি-১১৪২৮৬’র মাধ্যমে জাপান থেকে আমদানি তথ্যের ভিত্তিতে এই রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, এটি একটি পোশাক রপ্তানিকারকের শিপমেন্ট। এই নম্বরে কোন গাড়ি আমদানির রেকর্ড নেই। এতে স্পষ্ট হয় আমদানির কাগজপত্র জাল করে বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছে গাড়িটির। অন্যদিকে, কারনেটের গাড়ির তালিকা যাচাই করে দেখা যায় একই চেসিস ও মডেলের গাড়ি ২০১০ সালে দেশে প্রবেশ করে। রুপা মিয়া নামের একজন লন্ডন প্রবাসী ২০১০ সালের ৭ অক্টোবর কারনেট নম্বর ডিডিওয়াই-৬৪১৬১৯’র মাধ্যমে বিনাশুল্কে গাড়িটি ছাড় করান। রুপা মিয়ার ব্রিটিশ পাসপোর্ট নম্বর ১০৮৭৯৩২০৩। গাড়ির চেসিস নং ঔঞঔঐঋ৩১ট৯০০০২৩৬৩৪, ঈঈ ২৯৯৫, গড়ফবষ: খবীঁং জঢ৩০০, ণবধৎ: ২০০৪ শুল্কসহ গাড়ির মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। গাড়িটি বর্তমানে সিলেট শুল্ক গোয়েন্দার দপ্তরে আটক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আরো অনুসন্ধান করে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা হবে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান উল্লেখ করেছেন, ‘সিলেট অঞ্চলে এমন গাড়ি আরো রয়েছে, স্বেচ্ছায় কেউ যদি শুল্ক গোয়েন্দার নিকট গাড়ি জমা প্রদান করেন, তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তা না হলে যে ব্যক্তি গাড়ি ক্রয় করবেন তিনিও বিপদে পড়বেন’।
সুনামগঞ্জের হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী বেলাল আহমদ বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী, জরুরি প্রয়োজনে সিলেটের বিশ্বনাথের আলহেরা মার্কেটের মালিক পংকী খানের মাধ্যমে একজন প্রবাসী’র কাছ থেকে গাড়িটি কিনে আনি, কেনা ও কাগজ করাসহ ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে আমার। পরে জেনেছি আমি যার কাছ থেকে গাড়ি কিনেছি, তিনি একজন গাড়ি ব্যবসায়ী। এই বিষয়ে আমার কোন দুর্বলতা নেই, আমি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খানের কাছে আবেদন করে বলেছি, তাঁদের মাধ্যমে আমি আমার কষ্টার্জিত টাকা ফেরৎ চাই, গাড়িটি নেবার সময়ও আমি বলেছি, গাড়িটি আমি কিনেছি, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি কেনা হয়ে থাকলে যারা গাড়ি আমদানী করেছে তারাই দায়ী’।
- রেল সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা-সুনামগঞ্জবাসীর মনে আশার সঞ্চার
- প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ৪ টি বৃহৎ সেতু- ছয় বছরেও দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয় নি


