নানা সমস্যায় জর্জরিত জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

এনামুল হক জুবের
নানা সমস্যায় জর্জরিত সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ভবন পুরোটাই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। শ্রেণীকক্ষের সংকটের কারণে একই কক্ষে ২টি শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের একসাথে ক্লাস করতে হয়। রয়েছে শিক্ষক সংকট। এছাড়াও নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার হুমকির মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়টি।
জানা যায়, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৮৫ সনে। এরপর সরকারিকরণ করা হয় ২০১৩ সনে। বিদ্যালয়ে রয়েছে মাত্র ৩ টি শ্রেণিকক্ষ। চরম অবকাঠামোগত সংকটে দুইতলা ভবনের সিঁড়ির জন্য নির্ধারিত স্থানে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ করা হয়েছে। প্রতিদিন একই শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে হয় দুইটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের। ফলে মানসম্মত পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে। বিদ্যালয়ে বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল সহ নেই পর্যাপ্ত আসবাবপত্রও। এছাড়াও নানাবিধ অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনমতে চলছে বিদ্যালয়টি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ে ১জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ কর্মরত আছেন ৪ জন শিক্ষক। তবে বিদ্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করার জন্য নেই কোন        
দপ্তরি। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা বা খেলাধুলার জায়গাও নেই।
শিক্ষকরা বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে জরুরী ভিত্তিতে কালভার্ট ব্লক নির্মাণ করতে হবে। না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই নদী ভাঙ্গনে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের যাতায়াত পথ বিপদজনক হয়ে উঠে। এভাবে চলতে থাকলে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।  
জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত  শ্রেণিকক্ষ নেই। বৃষ্টির দিনে বিদ্যালয়ের ছাদ চুঁয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে।
তিনি বলেন বিদ্যালয়ে দু’তালা ফাউন্ডেশন দেয়া আছে। এই একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা সম্প্রসারিত করলে শ্রেণীকক্ষের সংকট কাটিয়ে উঠানো যাবে।
এছাড়াও নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকি থাকায় বিদ্যালয়ের সামনে বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।