নাম চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার আবার বসছে সার্চ কমিটি

সু. খবর ডেস্ক
নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতির গঠিত সার্চ কমিটি দেশের চার বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বুধবার সকাল ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা এ বৈঠক হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় সার্চ কমিটি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নাম চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসবে। যে চারজন বিশিষ্ট নাগরিক সার্চ কমিটিতে মতামত জানিয়েছেন, তারা হলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) মোহাম্মদ আবু হেনা, আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম।
বৈঠক শেষে আবু হেনা বলেন, ‘দেশের স্বার্থে ইসি গঠনে সার্চ কমিটিকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তা পালনে তারা সক্ষম হবে। সব ভয়-ভীতি হুমকির ঊর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন এমন ব্যক্তিবর্গ নিয়ে ইসি গঠনের প্রস্তাব করবে সার্চ কমিটি।’
সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘যোগ্য সার্চ কমিটি হয়েছে। আশা করি তারা রাষ্ট্রপতির কাছে যোগ্য নামটি পাঠাবে। সার্চ কমিটিকে সৎ, যোগ্য ও সাহসী লোকের নাম পাঠানোর বিষয়ে মত দিয়েছি। যেটা বলা হয়েছে যুক্ত করেছি, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সামান্যতম ভিন্ন থাকে তাদের যাতে নিয়োগ দেওয়া না হয়।’
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় কথা হলো কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। তিনি হচ্ছেন প্রতীক। তিনি যদি একটু নরম হন তাহলে কমিশন জিরো হয়ে গেল। ভারতের নির্বাচন কমিশনের কথা বলেছি, তারা কারও কথা মানে না। মেরুদ- শক্ত থাকতে হবে, কোনো হুমকি ও কোনোকিছু তারা পরওয়া করবে না। শক্ত ও বয়স অবশ্যই ৭০ এর ভিতরে থাকবে।
নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি এই কথাটা বলেছি আইন নয়, পৃথিবী এগিয়ে গেছে এখন বলা হচ্ছে নির্বাচনের ব্যাপারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। কানাডায় সহ পৃথিবীর ২০টি দেশে আছে আইন নয়, সংবিধানে আছে। বাংলাদেশেও আইন নয়, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছি।
ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সরকারি দল যাতে কোনো হস্তক্ষেপ না করে।’ তিনি বলেন, ‘আগের ইসির সঙ্গে এবারের ইসির কাজের সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। কারণ এর আগে ইসি যেসব গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে তার সবই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছে। এবার রাজনৈতিক সরকারের মধ্যে অধীনে থেকেই কাজটি করতে হবে। ফলে এটা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সার্চ কমিটি যাদের নাম চূড়ান্ত করবেন তারা দায়িত্ব পাওয়ার পর যদি আশানুরূপ আচরণ না করতে পারেন তাহলে সার্চ কমিটিকে দায়ী করা সমীচীন হবে না।’
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনের ওপর নির্ভর করবে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ কেমন হবে। ফলে নির্বাচন কমিশনে যোগ্য, সৎ ও সাহসী লোক নিয়োগ করতে হবে। যে ২০ জনের নাম বাছাই করা হয়েছে সেই তালিকা প্রকাশ করা দরকার। শুধু সুপারিশ থাকলে হবে না একটি ভিশনও থাকা উচিত।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও বিধি) আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ‘সময়োপযোগী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে ইসি গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সার্চ কমিটির সদস্যরা তাদের পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে তাদের কথা শুনেছে।’
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সার্চ কমিটি আবার বৈঠকে বসবে। যেসব নাম এসেছে আরও যাচাই বাছাই করবেন। প্রয়োজনে আরও সংযোজন বিয়োজন করবেন। আরও যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০ জনের তালিকা থেকে দশজনকে চূড়ান্ত করবে সার্চ কমিটি। সেই দশজনের নাম ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্েয প্রস্তাব করা হবে রাষ্ট্রপতির কাছে।
এরআগে সোমবার সার্চ কমিটি ১২ বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে মতবিনিময় করে।
গত শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত সার্চ কমিটির প্রথম বৈঠকে তাদের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয় সার্চ কমিটি। এছাড়া ওই বৈঠকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঁচটি করে নাম চাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বরাবর ২৭টি রাজনৈতিক দল নাম জমা দেয়।
মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে নামগুলো সার্চ কমিটিকে দেওয়া হয়। দুটি দল নাম না দিলেও চিঠি দিয়ে নাম না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাঠানো নাম থেকে সততা, কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০ জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে সার্চ কমিটি। আরও যাচাই-বাছাইয়ের পর ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে জমা দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক দলগুলো সার্চ কমিটির কাছে ১২৫টি নাম জমা দেয়।