দেশের বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান, সংবিধান প্রণেতা ও বিশেষজ্ঞ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর ৭ মাস পরে হলেও সিলেটে বড় আকারে একটি শোকসভার আয়োজন হয়েছে। ওখানে অর্থমন্ত্রী প্রবীণ রাজনীতিক আবুল মাল আব্দুল মুহিত সুরঞ্জিতের রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করে তাঁকে দেশের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে উল্লেখ করেছেন। ওই সভায় আয়োজকদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট শহরের প্রবেশমুখ তেমুখীকে ‘সুরঞ্জিত চত্বর’ ঘোষণা করেছেন । অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিক সুরঞ্জিতের স্মৃতি অম্লান রাখার জন্য ছোট একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কীর্তিমানদের সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হলে, বিশেষ করে সেটি যদি হয় ব্যক্তির মৃত্যুর পর, তখন আসলে তাতে শ্রদ্ধা জানানো ব্যক্তির কোন ক্ষতি-বৃদ্ধি করে না। তবুও সামাজিক মানুষ এমন কাজ সোৎসাহে করে এ কারণে যে, এতে করে কীর্তিমানের প্রতি কিছুটা হলেও দায় শোধ হয়। ব্যক্তি সুরঞ্জিত, যিনি জন্মের আগে বাবাকে হারিয়েছেন, মাকে হারিয়েছেন ছোটবেলায়ই, যিনি দিরাই-শাল্লার মানুষের ভালবাসায় একটি জীবন গড়েছিলেন এবং শেষতক ওই জীবনটি বিলিয়ে দিয়েছিলেন দেশ-মাতৃকার জন্য; তাঁর বিশাল জীবনের সুবিশাল কীর্তিরাশি আমাদের জন্য ইতিহাস। সেই ইতিহাস এই দেশের জন্ম থেকে বেড়ে উঠা এবং সংকট থেকে উত্তরণের দিশা পাওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ইতিহাস এক সুশ্রী অমিত সাহসী যুবকের একাত্তরের রণাঙ্গণে একটি সাবসেক্টর গঠন ও নেতৃত্ব দেয়ার গৌরবে গৌরবান্বিত। এই ইতিহাস দেশ পরিচালনার পবিত্র গ্রন্থ সংবিধান রচনার সাথে জড়িত। বার বার সাংবিধানিক বিতর্ককালে সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়ার সাথে সম্পর্কিত। এই ইতিহাস ভাটির কৃষকের স্বপ্ন পূরণ ও স্বপ্ন ভাঙার সাথে সম্পর্কিত। নানাভাবে ব্যক্তি সুরঞ্জিতকে মূল্যায়ন করা যাবে দীর্ঘদিন। সামাজিক সুস্থতা ও অগ্রগতির জন্য এই মূল্যায়ন জরুরিও বটে। তিনি জীবিত থাকতে অনেক সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছিলেন, যার কিছু হয়তো ছিল সংগত এবং বেশির ভাগই অসংগত। কিন্তু এইসব সমালোচনা দেশকে বিলিয়ে দেওয়া তাঁর কীর্তিরাশিকে এতটুকু ম্লান করতে পারবে না। মৃত্যুর পর তো তাঁর আর কিছু পাওয়ার থাকে না। তখন তিনি শুধুই একটি নাম, একটি চেতনাÑ যা জীবিতদের নানাভাবে প্রভাবিত করে। অর্থমন্ত্রী এই সত্য অনুধাবন করেই বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখযোগ্য পবিত্র যে ভাবনাগুলো স্থান পায় সেগুলোতে সেনগুপ্ত অবদান রেখেছেন। তার জন্য তিনি অনন্তকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’ অনন্তকাল সেনগুপ্তকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে আমরা এবং অনাগত প্রজন্ম মূলত নিজেদেরই সমৃদ্ধ করবে। কীর্তিমানকে স্মরণ করার এই হলো প্রকৃতার্থ।
আরও সব মহাপুরুষের সাথে সুরঞ্জিতের কারণেও সারা দেশে জেলা সুনামগঞ্জের নাম শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে পরিচিতি পেয়েছে, এ কথা অস্বীকার করার জো নেই। সিলেটস্থ দিরাই-শাল্লা সম্প্রীতি পরিষদ একটি শোকসভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এর কিছুটা হলেও প্রতিদান দিয়েছে। এর ফলে সংগঠনটি সুরঞ্জিতের শরীরে লেগে থাকা উজ্জ্বলতার কিছুটা নিজেদের শরীরে ছুঁয়াতে পারল বটে। আমরা সংগঠনটির কর্ণধারদের অভিনন্দন জানাই। আশা করি সুরঞ্জিতের নিজের জেলা শহর সুনামগঞ্জেও নিকট ভবিষ্যতে কোন না কোন সংগঠন এরূপ স্মরণসভার আয়োজন করে বিলম্বে হলেও উপযুক্ত কাজটি করবেন।
- সুরঞ্জিত ছিলেন দেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র
- ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ পরিবারের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড

